Tuesday, August 18

মিলাদুন্নবী: পর্ব-০১ | বিশ্বনবী মুহাম্মদ মোস্তফা রাহমাতুল্লিল আলামিন (স.)

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِين
“আমি তো আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।”

মাহে রবিউল আউয়াল-এর আগমনের সাথে সাথে মোমিনের হৃদয়ে জেগে উঠে এক প্রতিচ্ছবি, তিনি হলেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সৃষ্টি জগতের প্রভু হলেন রাব্বুল আলামিন। তিনি সৃষ্টি করলেন সর্বশেষ সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের প্রিয় রাসূল মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাহমাতুল্লিল আলামিন করে। আজ প্রত্যেকটি মোমিনের ঘরে ঘরে হৃদয়ে রাসূলের আগমনের ধ্বনি প্রতিধ্বনি বেজে উঠেছে। রসুলের মহব্বতের নেই কোনো কমতি। প্রকৃতপক্ষে কোন কোন কর্মে রাসূলের মহব্বত প্রকাশ পাবে এবং রাসূলের প্রিয় হতে পারবে, সেটি হয়তো আজও অনেকে জানে না। বা জানার চেষ্টা করে না। আমলের কমতি হলেও কিছু ক্ষেত্রে ঈমানী শক্তি অনেক তীক্ষ্ণ। কেউ যদি রাসুলের বিরুদ্ধে কোনো অসম্মানমূলক কথা বলে তখনই দেখা যায়, যে লোকটির আমল কম ছিল সে লোকটি আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে রাসুলের সম্মান রক্ষার্থে। মানুষের আমল নিয়ে কটাক্ষ না করে, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এক মুসলিম অপর মুসলিমকে রসূলের সিরাত ও সুরতে অর্থাৎ আদর্শে গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা।

আমাদেরকে জানতে হবে আল্লাহ তাআলা কেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হিসাবে প্রেরণ করলেন? রাসূল মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের পূর্বে আল্লাহ তাআলা এ জমিনের মানুষের হেদায়েতের জন্য মতান্তরে এক লক্ষ বা দুই লক্ষ ২৪ হাজার নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন এবং ১০৪ খানা আসমানী কিতাব নাজিল করেছেন। তারপরও এই মানুষগুলো আল্লাহর ওয়াহাদানীয়ত থেকে মুখ ফিরিয়ে তাদের মনগড়া তৈরি জড় বস্তুসমূহের পূজা অর্চনা বা ইবাদত করা শুরু করে। তাদের মধ্যে প্রভাবশালী গোত্র ও বংশের লোকদের স্বীয় স্বার্থ রক্ষার্থে মনগড়া তৈরি করা নিয়মকানুন মেনে চলতে বাধ্য হয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী গরিব বংশ মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব সম্মান মর্যাদা স্বকীয়তা আছে। সে গরিব হোক আর ধনী হোক, তার আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হবে। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-হুজুরাতে-এরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সর্বাধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি।”

মানুষকে আল্লাহ তা’আলা আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করে তার বিধান দান করেছিলেন। নবী রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু এই মানবজাতি সবকিছু থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করে এমন এক সমাজ গড়ে তুলল, ইতিহাস রচিত হলো আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগ হিসাবে। সেই যুগে আমাদের নবী সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অনন্য চরিত্র নিয়ে তিনি আবির্ভাব হলেন। যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিলেন : وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ) : “এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।” চলবে ইনশাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *