
|| শাহীন হাওলাদার | মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালীর) প্রতিনিধি ||
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ১নং মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা শিশুর বাজার সংলগ্ন একটি সরকারি ব্রিজের অংশবিশেষ রাতের আঁধারে ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুর বাজার সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ঢালাই ব্রিজটির পাশের রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে ব্রিজের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এর কাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও ব্রিজের নির্ধারিত দূরত্ব অমান্য করে জনৈক আবুল কালাম আজাদ সেখানে একটি স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওঠার জন্য সিঁড়ি তৈরির পথ সুগম করতেই কালামের ভাতিজা সাগরের মাধ্যমে সুদেব ধোপা নামের এক দিনমজুরকে দিয়ে ব্রিজের রেলিং ভাঙানো হয়। অভিযুক্ত শ্রমিক সুদেব ধোপা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে সাগরের নির্দেশেই তিনি রাতের আঁধারে ব্রিজের অংশবিশেষ ভেঙেছেন।
তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে তার ভাতিজা সাগর এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান জানান, বাজার কমিটির সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তাকে বলেছিলেন যে, সাগর এলজিইডি অফিস থেকে অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন বলে দাবি করেছিলেন। তবে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারি ব্রিজ ভাঙার অধিকার কারো নেই এবং কেউ যদি তা করে থাকে তবে সেটি চরম অন্যায়।
জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল মির্জাগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সরকারি সম্পদ নষ্টের এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
