
|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||
ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেছেন, ১৮৩১ সালের ৬ মে’র ঐতিহাসিক বালাকোট যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের হারানো গৌরব ও অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার এক সর্বাত্মক সংগ্রাম। আজ বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বারিধারায় ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজের পতন এবং ১৭৯৯ সালে টিপু সুলতানের শাহাদাতের পর ইংরেজরা যখন এদেশ দখল করে নেয়, তখন মুসলমানদের নৈতিক অধঃপতন ও অনৈক্য চরমে পৌঁছেছিল। সেই দুঃসময়ে শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সাইয়েদ আহমদ ব্রেলভী ও শাহ ইসমাইল শহীদের নেতৃত্বে বালাকোটের লড়াই মুসলমানদের আত্মপরিচয় রক্ষার এক প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ছিল।
মাওলানা মা’ছুম আরও বলেন, বালাকোটের যুদ্ধে মুসলমানরা বাহ্যিক বিজয় অর্জন না করলেও তা আজও মুসলিম উম্মাহকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তিনি তৎকালীন সময়ের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, একশ্রেণির দালাল জমিদার ও বিদেশি শক্তির নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণেই ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের গোড়াপত্তন হয়েছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটেও বালাকোটের চেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তিনি সকলকে বালাকোটের বীরত্বগাথা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, বালাকোটের শিক্ষা আমাদের জাতীয় জীবনে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও বালাকোটের প্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়-ইনসাফ ভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসাসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
