রবিবার, জুন ১৪

নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রসারে বাজেট ও পরিকল্পনা জরুরী

বর্তমানে সমাজে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সমাজের সর্বস্তরে দূর্নীতি, অপরাধ কর্ম বেড়েই চলছে। চারিদিকে খুন, গুম ছিনতাই, ধর্ষণ, দূর্নীতি ইত্যাদি অপরাধকর্ম বেড়েই চলছে। শিক্ষার হার বাড়লেও অপরাধ কর্মকান্ড কমছে না। শিক্ষিত সমাজেও জঘন্য অপরাধের খবর পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর অন্যতম কারণ নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব। এমন শিক্ষার প্রয়োজন, যা মানুষের বিবেককে জাগ্রত করবে। সুস্থ বিবেক বিকাশে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।

আল্লাহ বলেন, ” তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন, আর যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়, সে প্রভূত কল্যাণকর বস্তু প্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে যারা জ্ঞানবান”। সূরা বাকারা- ২৬৯

সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক শিক্ষা অর্জন জরুরী। আর ইসলামী শিক্ষা মানুষকে নৈতিকভাবে একজন আদর্শ মানুষে পরিণত করে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্হা মানুষকে কাগজে কলমে শিক্ষিত করলেও অনৈতিক কর্ম থেকে মানুষকে বিরত রাখতে পারছে না।

অশিক্ষিত ও মুর্খ মানুষের চেয়ে শিক্ষিতরা আজকাল অপরাধের সাথে বেশি জড়িত হচ্ছে, ব্যাংক ডাকাতি, রিজার্ভ চুরি সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি, রডের বদলে বাঁশ ইত্যাদি কাজগুলো অশিক্ষিত মানুষরা করছে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমার পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।”সূরা তাহরিম -৬।

এর ব্যাখ্যায় হযরত আলী রাঃ বললেন, ধর্মীয় জ্ঞানের মাধ্যমে পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।

সামাজিক সকল অপরাধকর্ম দূরকরনে সমাজের দায়িত্বশীলের সবচেয়ে দায়িত্ব বেশি। এ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতা প্রয়োজন। এর জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় বাজেট ও কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে। সর্বক্ষেত্রে নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই সুন্দর সুখী নিরাপদ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *