রবিবার, জুন ১৪

দেশ জাতির আস্থা ধর্মীয় প্রতিফলন ঘটে, শিক্ষাকারিকুলামে এমন বিষয় থাকা বাঞ্ছনীয়

বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে ৯০% মুসলিম দেশের ৩৫০ সাংসদের এক ষষ্ঠমাংশই মন্ত্রী হয়ে থাকেন। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মানুসারিদের সঠিক নির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছাড়াই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ে ধর্ম সম্পর্কে পাণ্ডিত্য রাখেন এমন কাউকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয় না। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হন ডাক্তার এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মন্ত্রী থাকেন।

ধর্ম বিষয়ে এত অনীহা অবজ্ঞা থাকা কতটুকু সমীচীন সেটা প্রাজ্ঞজনরাই ভেবে দেখবেন।

ফল যত ভালো হোক ভিতরে পোকা থাকলে সেটা খাওয়ার অযোগ্য হয়। দেশের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে একজন লোকও এই পোকাবিশিষ্ট নষ্ট ফল কিনবে, এমন বোকা দেশে কাউকে পাওয়া যাবে না।

অথচ মুসলিমদের ঈমান আকিদা বিধ্বংসী লোকগুলোকে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের অর্থে লালন করে এদেরকে মন্ত্রীর-দায়িত্ব দিয়ে জনগণের ঈমান আকিদা বিধ্বংস করে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে।

বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় দুদিন আগেও দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার জন্য সর্বাধিক সমালোচিত হন। ইনি আবার আজকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বিষয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।

এরা কাদের কথায় কাদের ইশারায় কাদের অর্থে কাদের ইঙ্গিতে দেশের মৌলিক বিষয় শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং মুসলিমদের ঈমান আকিদা বিধ্বংসী এহেন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সরকার আমলে দেরযুগে একটি মাদ্রাসাও সরকারি হয়নি। ইবতেদায়ীগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কোনো কলেজে ইসলামী শিক্ষা অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ সরকারের আমলে দেশের জনগণ এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা আশা করেছিল।

এখানে প্রাথমিকের মতো সকল এবতেদায়ী সরকারীকরণ, প্রতিটি জেলায় একটি করে ফাজিল কামিল মহিলা মাদ্রাসা সরকারীকরণ, সকল কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চালু করণ, শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করণ, সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দান, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মসজিদ নির্মাণ, দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানদের ঈমান আকিদা বলিষ্ঠ হয় এমন কাজ না করে সরকার দেশের লক্ষ ভাগের এক ভাগ লোকের বাস্তব জীবনে কাজে আসবে না এমন ঈমান বিধ্বংসী বিষয় নাচ গান ইত্যাদি শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

দেশ জাতির প্রত্যাশা সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটে এমন বিষয় শিক্ষা পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *