মঙ্গলবার, জুন ৩০

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে পুনরুজ্জীবিত করতে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে পুনর্মঞ্চায়ন ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী মাসব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবের প্রতিটি দিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতিটি দিনের জন্য বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচির প্রথম দিন ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারত, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনসমূহের সংহতি সভা এবং বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে উপজেলা পর্যায়ে মাসব্যাপী পদযাত্রার লক্ষ্যে ‘জুলাই থেকে জনপদ’ কর্মসূচির সূচনা করা হবে। এরপর ২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখন এবং ৫ থেকে ৯ জুলাই ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১০ জুলাই লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আলোচনা সভা, ১৪ জুলাই ‘জুলাই নারী সমাবেশ’, ১৫ জুলাই ‘কৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ এবং ১৬ জুলাই রংপুর ও চট্টগ্রামে যথাক্রমে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতসহ দেশব্যাপী শহীদ ও আহত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল, ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডে’, ১৯ জুলাই উত্তরার রক্তাক্ত স্মৃতিচারণ এবং ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ী ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২২ জুলাই চিকিৎসকদের অবদানের স্মরণে ‘সাদা অ্যাপ্রনের সাহস’, ২৩ জুলাই ‘আহতদের কণ্ঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’, ২৪ জুলাই যুব কনভেনশন ও কবিতা পাঠ, ২৫ জুলাই শ্রমিক সমাবেশ, ২৬ জুলাই ‘সাদা পোশাকের জালিম’ শীর্ষক আলোচনা এবং ২৭ জুলাই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করা হবে। মাসের শেষ দিকে ৩০ জুলাই ‘ফিরে দেখা জুলাই’ ও ‘হ্যাশট্যাগ থেকে গণঅভ্যুত্থান’ এবং ৩১ জুলাই শিক্ষকদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ১ আগস্ট দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের স্মরণে ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ২ আগস্ট ‘জুলাইয়ের গৃহযাত্রা’, ৩ আগস্ট জাহিদ ইসলামের এক দফা ঘোষণার স্মরণে ‘জনতার এক দফা’, ৪ আগস্ট আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই মাসব্যাপী আয়োজন শেষ হবে। এর পাশাপাশি মাসজুড়ে প্রবাসীদের নিয়ে ‘প্রবাসে জুলাই’ কর্মসূচি চলবে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ জানান, এই বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক হিসেবে তিনি নিজে এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। এই কমিটিতে আরিফুল ইসলাম আদি, আকরাম হোসেন সিয়া, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাওলানা আশরাফ মাহদীসহ বিভিন্ন উইংয়ের প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট উইংগুলো যথাসময়ে প্রতিটি কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় প্রকাশ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *