
|| ধর্ম ডেস্ক ||
আজ ১৬ জিলহজ। পবিত্র হজ, ঈদুল আজহা ও কুরবানির মহান ইবাদতগুলো সম্পন্ন করার পর মুসলিম উম্মাহ এখন জিলহজ মাসের দ্বিতীয় অর্ধে অবস্থান করছে। ইসলামের পরিভাষায়, কোনো বড় ইবাদতের পর আমলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হলো সেই ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম লক্ষণ। জিলহজের প্রধান আমলসমূহ শেষ হলেও, এই মাসের বাকি দিনগুলোতে দৈনন্দিন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে আত্মিক ও নৈতিক পবিত্রতা ধরে রাখা সম্ভব।
ইসলামী দর্শনে ইবাদতের ধারাবাহিকতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা পরিমাণে কম হোক।” (সহীহ বুখারী)। জিলহজের প্রথম দশকের জোরালো আমলের আবহ শেষ হওয়ার পর অলসতা যেন গ্রাস না করে, সেজন্য দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি আমল নিয়মিত করা প্রয়োজন:
ফরজ নামাজে যত্নবান হওয়া ও নফল ইবাদত:
কুরবানির ব্যস্ততা বা পরবর্তী ঘোরাঘুরির কারণে অনেকেরই জামাতে নামাজ বা নিয়মিত ইবাদতে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। ১৬ জিলহজের এই সময়ে এসে দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়ের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ ও চাশতের (দুহা) মতো নফল নামাজে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি।
আইয়ামে বিজের রোজা:
জিলহজ মাসের অন্যতম আমল হলো ‘আইয়ামে বিজ’ বা চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা। যেহেতু জিলহজের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ (আইয়ামে তাশরিক) রোজা রাখা হারাম, তাই এই মাসের ক্ষেত্রে আইয়ামে বিজের বাকি দুই দিন (১৪ ও ১৫ জিলহজ) এবং এর সাথে ১৬ জিলহজ বা অন্য যেকোনো দিন মিলিয়ে রোজা রাখার পরামর্শ দেন আলেমগণ।
কুরবানির শিক্ষা ও দান-সদকা:
কুরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে সমাজে যে ত্যাগের ও সহমর্মিতার নজির তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণ দান-সদকা জারি রাখা উচিত।
বেশি বেশি ইস্তিগফার ও জিকির:
কুরবানি ও হজের মতো বড় ইবাদত সম্পন্ন করার পর অহংকার যেন মনে দানা না বাঁধে, সেজন্য সর্বদা ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা এবং দৈনন্দিন তাসবিহ তাহলিল বজায় রাখা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
হজ ও কুরবানির মূল দর্শন হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা। জিলহজের এই দিনগুলোতে প্রতিদিনের ছোট ছোট নেক আমল ও পাপমুক্ত জীবনের চর্চায় মগ্ন থাকাই হোক একজন প্রকৃত মুমিনের দৈনিক অঙ্গীকার।
