
|| ধর্ম ডেস্ক ||
যোগ্যাতা ও দক্ষতা থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা মেলে হজরত মুসা (আ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা থেকে।
নবী মুসা (আ.) মিসর ছেড়ে মাদইয়ানে পৌঁছানোর পর বিপদে পড়ে এক ছায়াময় স্থানে আশ্রয় নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন:
رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির। অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস: ২৪)
এই দোয়ায় মুসা (আ.) নির্দিষ্ট কোনো পার্থিব সুবিধা দাবি না করে আল্লাহর কল্যাণের ওপর পূর্ণ নির্ভরতা প্রকাশ করেন। এর পরপরই তাঁর জন্য কাজের সুযোগ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়। কোরআনে এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘হে আমার পিতা, আপনি তাকে মজুর হিসেবে নিয়োগ করুন। নিশ্চয়ই আপনার নিয়োগকৃতদের মধ্যে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (সুরা কাসাস: ২৬)
পবিত্র কোরআনে সুরা তালাকের ২-৩ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ আবার তিরমিজি শরিফের ২৩৪৪ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পাখিদের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, ভরসা রাখার পাশাপাশি জীবিকার উদ্দেশ্যে বের হওয়া বা কর্মতৎপরতা সমান জরুরি।
তাই চাকরিপ্রত্যাশীদের শুধু দোয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কিল বৃদ্ধি, চাকরির আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি ঘুষ ও প্রতারণামুক্ত হালাল উপার্জনে যত্নবান হওয়াই একজন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য।
