
|| এস এম রেদোয়ানুল হাসান | ইবি প্রতিনিধি ||
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক দাবির মুখে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের ভাঙাচোরা অংশের সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে স্বস্তি ফিরেছে সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে। তবে সংস্কার শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কোনো স্পিড ব্রেকার বা গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের অংশ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক পারাপার করেন। আগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ থাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলত। কিন্তু নতুন করে কার্পেটিং হওয়ার পর যানবাহনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এতে সড়ক পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, আবাসিক হল এবং গুরুত্বপূর্ণ পারাপারের স্থানগুলোতে স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও প্রয়োজনীয় গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্রুত স্থাপন করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আগে রাস্তা ভাঙা থাকায় গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলত। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল অনেক বেশি গতিতে চলাচল করছে। প্রধান ফটকের সামনে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হতে হয়। স্পিড ব্রেকার না থাকলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, শুধু রাস্তা সংস্কার করলেই হবে না, মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক সাইন স্থাপন করা জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. শরীফ উদ্দীন বলেন, “আমরা একটি ফাইল তৈরি করে প্রশাসনের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে কাজ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি। রাস্তার সেকেণ্ড লেয়ার করার সময় স্পিড ব্রেকার দেওয়া হতে পারে। তবে দেওয়া না হলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্পিড ব্রেকার দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য স্যার।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কারকাজ শুরু করে, যা বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
