
|| গাজীপুর প্রতিনিধি ||
গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নির্দোষ আসামিদের মুক্তি এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার কামনায় গাজীপুরের টঙ্গীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় টঙ্গীর মরকুন ও গোপালপুর এলাকায় আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে স্থানীয় শত শত মুরুব্বি, যুবক ও তরুণ অংশ নেন। এ সময় মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। মাহফিলে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং কারাবন্দি ও আত্মগোপনে থাকা আসামিদের ন্যায়বিচারের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মামলার অন্যতম আসামি নুরুল ইসলাম দিপু। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, “খোদার কসম, আমি এই হত্যাকাণ্ডে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার ভাই শহীদুল ইসলাম শিপুকেও এই মামলায় অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করে কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি হত্যার স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারসহ যারা নিরপরাধ, তাদের মুক্তি চাই। আহসান উল্লাহ মাষ্টারের সন্তান রাসেলকে বারবার আহবান জানিয়েছি, যেন নির্দোষদের মুক্তির ব্যবস্থা করে প্রকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টারের আত্মা শান্তি পায়।”
উপস্থিত প্রবীণ এলাকাবাসী ও বক্তারাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নির্দোষদের মুক্তির দাবি জানান এবং একই সাথে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নতুন করে এ মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে থাকা শহিদুল ইসলাম শিপু গত ৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে অন্যতম আসামি নুরুল ইসলাম দিপুর নির্দোষ হওয়ার দাবিটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
