বৃহস্পতিবার, জুন ১১

স্কটল্যান্ডে ‘বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কুয়েট শিক্ষক আব্দুল আউয়াল

|| নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||

আন্তর্জাতিক সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্মেলনে মর্যাদাপূর্ণ ‘বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’ (গবেষণা শাখা) অর্জন করেছেন বাংলাদেশী গবেষক ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইভালুয়েশন অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ইন সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইএএসই ২০২৬)’ সম্মেলনে তাঁর একটি গবেষণা প্রবন্ধ সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণা প্রবন্ধটির শিরোনাম ‘MoEKD: Mixture-of-Experts Knowledge Distillation for Robust and High-Performing Compressed Code Models’। বর্তমানে কানাডার ‘ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচোয়ান’-এ পিএইচডি গবেষণারত আব্দুল আউয়ালের এই যৌথ গবেষণায় সহ-গবেষক ও সুপারভাইজার হিসেবে যুক্ত ছিলেন ড. মৃগাঙ্ক রোচন এবং ড. চঞ্চল কে. রয়।

বিশ্বখ্যাত সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি (এসিএম)’ অনুমোদিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের ভিড়ে বাংলাদেশী শিক্ষকের এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা অঙ্গনের জন্য এক বড় গৌরব বয়ে এনেছে। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ইএএসই ২০২৬-এর জেনারেল চেয়ার ও প্রোগ্রাম চেয়ারদের হাত থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা সনদ গ্রহণ করেন।

এই অনন্য অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে গবেষক মো. আব্দুল আউয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর জন্য অত্যন্ত অর্থবহ, কারণ দীর্ঘ গবেষণা জীবনের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ, ব্যর্থতা এবং একের পর এক জার্নাল বা কনফারেন্স থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার গল্প। এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর দুই সুপারভাইজার ড. চঞ্চল কে. রয় ও ড. মৃগাঙ্ক রোচনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে প্রবাস জীবনের কঠিন দিনগুলোতে পাশে থাকা সহকর্মী ও সুহৃদ শামিমুর রহমান ও খায়রুল আলম এবং এসআরল্যাব (SRLab) ও আইএসই ল্যাবের (iSELab) সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আউয়াল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তাঁর স্ত্রীর কথা, যিনি সমস্ত বাধা-বিপত্তি ও হতাশার মুহূর্তেও তাঁর ওপর আস্থা হারাননি এবং যাঁর অবিরাম উৎসাহ এই সাফল্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বাংলাদেশী মেধার এমন জয়জয়কার বিশ্বজুড়ে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *