Sunday, October 18

সলঙ্গায় ডাক্তার সোসাইটির উদ্যোগে তালবীজ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

|| আখতার হোসেন হিরন | সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ||

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় দুর্যোগ প্রতিরোধ, বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে তালবীজ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২৬ পালন করেছে ‘সলঙ্গা ডাক্তার সোসাইটি’। পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে সংগঠনটির এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে সলঙ্গার পুরাবেড়া থেকে নাইমুড়ী কৃষি মাঠের গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার দুই পাশে প্রায় শতাধিক তালবীজ রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছের চারা লাগানো হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে রাস্তার দুই পাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডেপুটি কন্ট্রোলার প্রফেসর ডা. খন্দকার মোহাম্মদ আলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল আলম স্বপন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. এম এ জলিল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা ডাক্তার সোসাইটির উদ্যোক্তা/ অ্যাডমিন ডা. ওবায়দুর রহমান, স্থানীয় গ্রামের মুরুব্বি আবুল কালাম আজাদ, ইউপি সদস্য কে এম সুজনসহ সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথি ডা: খন্দকার মোহাম্মাদ আলী জানান, তালগাছ বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘজীবী ও শক্ত কাঠামোর এ গাছ পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর আলোচনায় তালগাছ রোপণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব পেয়ে আসছে। তবে শুধু তালগাছ লাগালেই বজ্রপাত থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না; বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

বিশেষ অতিথি ডা শামসুল আলম স্বপন জানান, তালগাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে সহায়তা করে। উপযুক্ত স্থানে তালগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করলে মাটির ক্ষয় কমানো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পরিবেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। পাশাপাশি পরিণত গাছের ছায়া ও সবুজ আচ্ছাদন গ্রামীণ জনপদকে আরও মনোরম করে তোলে।

ডা: এম এ জলিল জানান, তালগাছের ফল গ্রামীণ মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এসব গাছ ভবিষ্যতে পরিবেশগত সুবিধার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। বনজ ও ফলজ গাছের সমন্বিত রোপণ এলাকার জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

ডা: ওবায়দুর রহমান বলেন,আমাদের এমন সামাজিক উদ্যোগে বদলে যেতে পারে গ্রামীণ পরিবেশ।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সলঙ্গা ডাক্তার সোসাইটির এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা তৈরির একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু গাছ লাগানোই নয়, রোপণ করা প্রতিটি তালবীজ ও চারার যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এ কর্মসূচির সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সলঙ্গা ডাক্তার সোসাইটির এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় অন্যান্য সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবী সংগঠনকেও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মিলিত উদ্যোগে গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে গাছের সমারোহ গড়ে উঠলে একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তৈরি হবে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব জনপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *