
|| স্পোর্টস ডেস্ক ||
বিশ্বকাপ জয়ের অসামান্য গৌরব ও ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) ২৬ সদস্যের বিজয়ী দলটি স্পেনে পৌঁছালে তাদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নিজ দেশে ফিরেই খেলোয়াড়েরা প্রথমে রাজপরিবারের সদস্য ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে ছাদখোলা বাসে চড়ে রাজধানী মাদ্রিদের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী বীরদের একনজর দেখতে রাজধানীর রাজপথে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ভিড় জমান। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রাটি ঐতিহ্যবাহী সিবেলেস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে খেলোয়াড়দের এক জমকালো নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের পাশে থাকার জন্য ও অকৃত্রিম ভালোবাসা দেওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এই দলে ২৬ জন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসেরা ফুটবলার রয়েছেন, যাদের কোচ হতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরও শক্তিশালী হবে। স্পেন দীর্ঘজীবী হোক।”
উল্লেখ্য, রবিবারের রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বসেরার খেতাব অর্জন করে স্পেন। ২০১০ সালের পর এটি দেশটির দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। এছাড়া ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষ বিশ্বকাপও জেতায় ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে একই সঙ্গে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়ল স্পেন।
ঐতিহাসিক এই শিরোপা জয়ের পর স্পেনকে যৌথভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন টুর্নামেন্টের আয়োজক তিন দেশের শীর্ষ নেতারা— যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
এদিকে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই পুরো মাদ্রিদজুড়ে আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীজুড়ে গান, নাচ আর আতশবাজিতে মেতে ওঠেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী সমর্থক। তবে উৎসবের আবহের মধ্যেই নেমে আসে শোকের ছায়া; রাজধানীর সালামাঙ্কায় উদযাপনের সময় একটি ঝরনা ভেঙে পড়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
২০১০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সময়ের তুলনায় বর্তমান স্পেনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র অনেকটাই ইতিবাচক। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি ইউরোপের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অবস্থানে রয়েছে এবং বেকারত্বের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সব মিলিয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দ ও দেশজুড়ে উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো স্প্যানিশ ফুটবল।
