Tuesday, July 14

বিশ্ববাজারে চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম!

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা তিন দিনের সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও ২ শতাংশ বেড়েছে। সেপ্টেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯১ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা গত ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমলেও, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বাজার আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, টানা তৃতীয় দিনের অভিযানে ইরানের এমন সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক মানুষের জন্য হুমকি। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি সুপার ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়াশিংটন আবারও ইরানের সমুদ্রবন্দর অবরোধ কার্যকর করবে এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা ফি হিসেবে ‘ট্রানজিট ফি’ আদায় শুরু হবে।

এদিকে সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলেও। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত মাত্র ৫৭টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি কম। যেখানে সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের এই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত থাকলে তেলের দামে আরও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে। সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুদের বড় অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহার হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *