Saturday, September 5

‘বাংলার রুমি’ শাহসুফি সৈয়দ আহমদুল হক-এর ১৫তম ওফাতবার্ষিকী আজ

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

উপমহাদেশের খ্যাতিমান আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সাধক, বিশিষ্ট সুফি গবেষক ও ‘বাংলার রুমি’ নামে পরিচিত শাহসুফি সৈয়দ আহমদুল হক (র.)-এর ১৫তম ওফাতবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

১৯১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত সুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ আহমদুল হক। তাঁর বাবা শাহসুফি হযরত মাওলানা সৈয়দ সিরাজুল হক (র.) প্রকাশ সিরাজ বাবা ছিলেন তৎকালীন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলি, ওয়ায়েজ ও বুজুর্গ আলেম।

সৈয়দ আহমদুল হক শিক্ষাজীবনে মেধার অনন্য স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৩৬ সালে মহামুনি এ্যাংলো পালি ইনস্টিটিউট থেকে মেধাতালিকায় স্থান ও বৃত্তি নিয়ে প্রবেশিকা (মেট্রিক) পাশ করেন। ১৯৩৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম কলেজ থেকেই ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ১৯৬২ সালে বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থা অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও রপ্তানির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৪৩ সালে চট্টগ্রাম কলেজে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন সৈয়দ আহমদুল হক। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, সার্কেল অফিসার, পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্রশিল্প সংস্থার সচিব, ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের সেক্রেটারি এবং এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ডিরেক্টরসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৮০ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি নিজেকে সুফি সাহিত্য ও ইসলামী গবেষণায় নিয়োজিত করেন। সুফি মতবাদের প্রসার ও গবেষণা জোরদার করতে ১৯৯২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘আল্লাহমা রুমি সোসাইটি’। তিনি ‘মছনবী শরীফের কাহিনী ও মর্মবাণী’, ‘মছনবী শরীফের পয়গাম ও তাফসীর’, ‘বাংলাদেশের সুফি সাহিত্য’ ও ‘চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্য’-সহ বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তত ১৬টি মৌলিক ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেন। সমাজসেবায় অবদান রেখে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলন ও সেমিনারে নিবন্ধ উপস্থাপন করে তিনি ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান। ব্যক্তিজীবনে দুই ছেলে ও ছয় কন্যাসন্তানের জনক সৈয়দ আহমদুল হক আমৃত্যু একটি উদার, মানবিক, ভালোবাসাপূর্ণ ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন লালন করে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *