বৃহস্পতিবার, মে ১৪

তারেক রহমানের ঢাবিতে ভর্তির স্মৃতিচারণ করলেন হাতিয়া কলেজের বিভাগীয় প্রধান শাহ ওয়ালী উল্লাহ

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের হারানো সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ ওয়ালী উল্লাহ।

১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির দিনগুলোর সেই স্মৃতি হাতড়ে তিনি জানান, ১৯৮৬ সালের জুনের শেষ দিকে কলা ভবনের ডিন অফিসের সামনে সাক্ষাৎকার দিতে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ মেঝেতে পড়ে থাকা কিছু নথিপত্র কুড়িয়ে পান তিনি। খুলে দেখেন সেখানে তারেক রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর এসএসসি ও এইচএসসির মূল মার্কশিটসহ যাবতীয় তথ্য, যেখানে পিতার নাম লেখা ছিল জিয়াউর রহমান।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শাহ ওয়ালী উল্লাহ আরও জানান, কাগজপত্র পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি দেখেন একজন হালকা-পাতলা গড়নের ১৮ বছরের যুবক ব্যাকুল হয়ে ফাইল খুঁজছেন। যুবকটির হাতে ফাইলটি তুলে দিলে তিনি অত্যন্ত সানন্দে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তখনই যুবকটির চেহারার সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মিল খুঁজে পান তিনি। সেদিনের সেই সাধারণ যুবকটিই বর্তমানের প্রভাবশালী নেতা তারেক রহমান। সে সময় ঢাবির কলা অনুষদের ডিন ছিলেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল মোমেন চৌধুরী।

অধ্যাপক শাহ ওয়ালী উল্লাহ তার স্মৃতিচারণে সেই অস্থির সময়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করা তারেক রহমানের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অধ্যাপক ডক্টর শামছুল হক থেকে শুরু করে অধ্যাপক ডক্টর এমাজ উদ্দিন আহমদ পর্যন্ত চারজন উপাচার্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন তিনি। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনে সুলতান-মোস্তাক এবং আমান-খোকন পরিষদের মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোরও সাক্ষী তিনি। কবি জসিম উদ্দিন হলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি তৎকালীন ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান এবং বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের কথাও উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই তিনি এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। হাতিয়া কলেজের গভর্নিং বডির এক সভায় জনৈক নেতার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাক্ষুষ প্রমাণ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

শাহ ওয়ালী উল্লাহর এই স্মৃতিচারণ ও তার ব্যক্তিগত ভর্তির রসিদ —সবই সেই সোনালী ছাত্রজীবনের সাক্ষ্য বহন করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার বিষয়ে পাঠকরা সঠিক তথ্য পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *