
|| রাসেল মিয়া | তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বালিগাতি বেরনতলা রোডস্থ আওয়ালের বাড়িতে অফিস ভাড়া নিয়ে ঋণ দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি ভুয়া সংস্থার বিরুদ্ধে। ঋণ না দিয়ে উল্টো অফিসে তালা ঝুলিয়ে সংস্থার লোকজন উধাও হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ হাজার টাকা আমানত রাখলে ১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সংস্থাটি। গত শনিবার (৪ জুলাই) গণমাধ্যমকর্মীরা আওয়ালের বাড়ির ওই অফিসে গিয়ে তাদের বৈধতার কাগজপত্র দেখতে চাইলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী মঙ্গলবার তারা তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সব কাগজপত্র জমা দেবেন। কিন্তু এর পরদিন রবিবার থেকেই তাড়াইল উপজেলা কার্যালয় ও স্থানীয়দের ফাঁকি দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্রটি। নির্ধারিত সময়ে তারা ইউএনও কার্যালয়েও কোনো কাগজপত্র জমা দেয়নি।
এদিকে ঋণ পাওয়ার আশায় মঙ্গলবার সকালে ওই অফিসের সামনে শতাধিক মানুষ এসে ভিড় জমান। অফিস বন্ধ ও তালাবদ্ধ দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা লেনদেনের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
