শুক্রবার, জুন ১৯

চিলমারীতে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় হামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোড়গাছ বাজার বা এর নিকটবর্তী রমনা বাঁধের মোর এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছিল। মাদক ব্যবসায়ীদের ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতা চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আস্তানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, জোর গাছ হাটের দিন গত বুধবার ১৮ জুন রাতের অন্ধকারে দোকান ঘরের পিছনে গাজা সেবন ও চরাঞ্চলের মাদক সেবন ও ব্যবসায়ীদের নিকট গাজা বিক্রির সময় বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে ২ জনকে পিটিয়ে রক্তাত্ত জখম করা হয়েছে। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা মাদক ব্যবসায়ী, আওয়ামী দোসর। এলাকায় মাদকসাম্রাজ্য একক আধিপত্য বিস্তারকারীর আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে।

এ ঘটনায় সংঘর্ষে আহত দুজনকে জরুরী ভিত্তিতে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের অবস্থা অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে উন্নত চিকৎসার জন্য প্রেরণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোড়গাছ পুরাতন বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস সরকার ও আনারুল এর ওপর মাদক কারবারিরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। যার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

হামলাকারী মাদক সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, সাপ্তাহিক হাটের দিন বুধবার সকাল ১১ টায় জোড়গাছ পুরাতন বাজার এলাকার সিদ্দিকের ছেলে নিরাশা তার নিজ ভাতের হোটেলের পিছনে চরাঞ্চলের কয়েকজন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী যুবককে সাথে নিয়ে মাদক সেবন করতে থাকেন। এসময় উক্ত দোকান ঘরের ভিতরে দিয়ে পিছনে যাওয়ার সময় এলাকার প্রতিবাদী যুবক আনারুলের ও বিএনপি কৃষক দলের কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে গাজা সেবনের ব্যাপারে নিরাশাকে বিরত থাকতে বললে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লোকজন এসে আনারুলকে ও অন্যান্যদেরকে সেখান থেকে বাইরে নিয়ে যায়।

উক্ত আনারুল উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। উক্ত ঘটনার জের ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী পতিত আওয়ামী মদদপুষ্ট মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদকারীদেরকে হত্যার হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিকাল ৫ টায় জোড় গাছ গরুহাটির রতনের বাড়ীর পার্শে ওৎপেতে থেকে সন্ত্রাসী মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী পতিত আমলে এলাকার চিহ্নিত ছিদ্দিক, রন্জু, তালেব, নিরাশা, মালেক, আকাশ ও আরো অনেকেই হাতে লাঠি-শোটা নিয়ে বাড়ি থেকে হাটের দিকে আসা আনারুলের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে।

আনারুলের চিৎকারে এসময় কুদ্দুস, কাকন, সুজন, সহ বেশ কিছু সচেতন যুবক এগিয়ে আসলে তাদেরকেও উক্ত সন্ত্রাসীরা বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। উক্ত আক্রমনে কুদ্দুস পিতা আবু তালেব, আনারুল পিতা মৃত আবু সাইদ দ্বয় গুরত্বরভাবে জখম হওয়ায় তাদেরকে চিলমারী হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে এলাকাবাসী জানান।

উক্ত ঘটনার জের ধরে উত্তেজিত মাদক বিরোধী জনতা, ছিদ্দিক, মালেক, রন্জু, দোকানঘর ভাংচুর করেন।

উল্লেখ্য যে, ছিদ্দিক, নিরাশাসহ তাদের পরিবারের সমর্থনকারীরা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিরীহ মানুষের উপর প্রেট্রোল নিক্ষেপ ও ধর্ষণসহ নানা প্রকার মামলার আসামী হয়ে অত্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

অপর দিকে বুধবার রাতে রমনা বন্দর এলাকায় প্রতিবাদী সাধারন জনতা মাদককারবারীর সাথে জড়িত রিপন, বিটু, রন্জু, মুকুল ও বাবু মেকারের আস্তানায় ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হালিম বাদশা নামের একজন অভিযুক্ত দাবি করেন যে, তিনি বিগত বেশ কিছু মাস ধরে মাদক ব্যবসা থেকে দূরে রয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে এবং বর্তমানে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। অবস্থান ইতিবাচক হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

উক্ত ঘটনায় চিলমারী সচেতন মহল ও স্থানীয়রা, প্রতিবাদকারী যুবকদের মাদক বিরোধী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *