
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন
ভূমিকা (Introduction):
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক (১৯১৮-২০১১ খ্রি.) অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রয়াস হিসেবে মানুষের সমমর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ করেছেন। একইসাথে আমরা দেখতে পাই, তিনি তাঁর রচনায় রুমি-দর্শনের সহজ-সরল ও বোধগম্য ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন, ‘আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদশ’ প্রতিষ্ঠা করেছেন, জনপরিসরে সম্পাদিত কার্যক্রম হিসেবে নিয়মিত সভা, সেমিনার, ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রচার করেছেন এবং সমাজে মুক্তবুদ্ধি চর্চার অংশ হিসেবে যাবতীয় কুসংস্কার ও সংকীর্ণতার বিরোধিতা করেছেন। এমনকি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদকে স্বীকৃতি প্রদান, মানবিক মর্যাদা-ভিত্তিক সংহতি প্রকাশ, তরুণদের জন্য সহজবোধ্য আধ্যাত্মিক পাঠ, নানাবিধ বিষয়ে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের মানসেও তিনি কাজ করেছেন।
এসবের বাইরেও বাংলার রুমি তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের সকল আন্তরিকতা ও অস্তিত্ব দিয়ে একটি সহনশীল, মানবতাবাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের দৃশ্যমান প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিলেন; যা তাঁর ইহধাম ত্যাগের পরও তাঁর প্রতিষ্ঠিত আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশ এবং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সম্পদের আলোকে রেখে যাওয়া তাঁরই সুযোগ্য জ্ঞানিক ও পারিবারিক উত্তরাধিকারীগণ সেই প্রচেষ্টা নিরলসভাবে এখনো চালিয়ে নিচ্ছেন।
১. ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ’ বলতে আমরা কী বুঝি (What do we mean by an ‘inclusive society’?):
অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বলতে এমন এক সমাজকে বোঝায় যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সম্প্রদায়, লিঙ্গ, যৌনতা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা বা অন্যান্য পার্থক্য নির্বিশেষে সমাজের সকল মানুষ সমান মর্যাদা, অধিকার, সুযোগ, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতা নিয়ে সমাজের সব ক্ষেত্রে পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো, সকলের জন্য এমন এক সমাজ তৈরি করা, যেখানে কোনো ব্যক্তি কোনো প্রকার বর্জন বা বৈষম্যের শিকার না হয়েই সমাজে পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে প্রাসঙ্গিক সমস্ত কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অবাধ সুযোগ লাভের নির্বিঘ্ন অধিকার পাবে। সামাজিক ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সম্পদের সুষম বন্টন, বৈষম্যহীনতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতা ও সম্ভাবনা অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাব্য প্রতিটি ধাপে মানুষকে সংযুক্ত করে প্রতিনিধিত্ব ও অংশীদারিত্বের মর্যাদা প্রদান অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের মূল বৈশিষ্ট্য।
২. অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক (Inclusive Society and Banglar Rumi Syed Ahmadul Huq):
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক তাঁর কীর্তিময় জীবন ও অবিস্মরণীয় কর্ম-দক্ষতার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে গেছেন। সেটি তাঁর প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড দিয়ে যেমন সম্পন্ন করতে চেয়েছেন ঠিক তেমনি তাঁর লেখনি তথা সাহিত্যকর্ম ও রচনাবলির মাধ্যমেও ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা যদি তাঁর শুধুমাত্র ‘ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা’ প্রবন্ধটির দিকেও নজর দিই, তাহলে দেখতে পাবো তিনি এতদ্বিষয়ে কতোটা সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞামণ্ডিত প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতের শিক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার পুরোধা মনীষী বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক নিজেকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আল্লাহপাক বলেন, ‘আর আমি তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে সবচেয়ে বেশি সদাচারী।’ (৪৯ : ১৩) `ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা’ প্রবন্ধে তিনি উল্লিখিত আয়াতের আলোকে বলেছেন, আল্লাহ জাতি ও গোত্র সৃষ্টি করেছেন পরস্পরকে চেনার জন্য, জানার জন্য; হানাহানি, মারামারি বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করার জন্য নয়। এ কথার পরেও যদি আমাদের চেতনা না হয় তাহলে বুঝতে হবে আমরাই আমাদের ধ্বংসের পথ সুগম করছি। তিনি পবিত্র কুরআনের অন্য একটি আয়াতের সূত্র ধরে বলেন, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ধর্মগত যে আচার-অনুষ্ঠানাদি রয়েছে তাও আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মুসলমানের জন্য ইসলাম ধর্ম শ্রেষ্ঠ, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধরা বৌদ্ধ ধর্ম এবং খ্রিষ্টানরা খ্রিষ্টান ধর্ম পালন করবে, কেউ কারও সঙ্গে বিতর্কে নামার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি হিন্দু ধর্মের গীতা হতে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যে আমাকে যেভাবে উপাসনা করে আমি তাকে সেভাবেই তুষ্ট করি। মনুষ্যগণ সর্বপ্রকারে আমার পথেই অনুসরণ করে অর্থাৎ মনুষ্যগণ যে পথই অনুসরণ করুক না কেন, সকল পথই আমাতে পৌঁছতে পারে। তিনি পারস্যের মরমি কবি ও অধ্যাত্মবাদের দার্শনিক জালালুদ্দিন রুমির (১২০৭-১২৭৩ খ্রি.) একটি কবিতা উদ্ধৃত করে পবিত্র কুরআন ও গীতার বক্তব্যকে আরো স্পষ্ট করেন: ‘হার নাবি ওয়া হার অলিরা মাসলাকিস্ত, লিক বা হাক্ব মিবারাদ জোমলে একিস্ত’। অর্থাৎ প্রত্যেক নবি ও প্রত্যেক অলির এক একটি পথ রয়েছে, যেহেতু সকল পথই আল্লাহ পর্যন্ত নিয়ে যায় তাই উদ্দেশ্যের দিক হতে সকলেই এক। তাই তিনি গোত্রীয়, সম্প্রদায়গত বা ধর্মীয় ফেরকাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জীবন গড়তে সকলকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে এবং আন্তঃধর্মীয় কলহ ও বিবাদের মতো অসৎ কর্ম হতে বিরত থাকতে হবে। তিনি সমাজবিজ্ঞানী ও মানবতার কবি শেখ সাদির (১২১০-১২৯১ খ্রি.) কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: ‘মাদে রোখসাতে জোল্ম দার হিচ হাল, কে খুরশিদে মোলকাত য়াবাদ যাওয়াল’। অর্থাৎ কোনো অবস্থাতেই কারও উপর অত্যাচার করো না, কেননা অত্যাচার করলে তোমার সাম্রাজ্যের সূর্য অস্তমিত হয়ে যাবে। বাংলার রুমি মনে করতেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার দায়িত্ব সকল ধর্মমতের মানুষের; বিশেষ করে মুসলমানদের। কেননা তারাই এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ আর মহানবি (সা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী এদেশের সকল অমুসলিম নাগরিক তাদের কাছে পবিত্র আমানতের মতো, যা সুরক্ষার দায়িত্ব মুসলমানদেরই। সৈয়দ আহমদুল হক সবসময় মানুষকে মানুষ হিসেবেই বড় করে দেখেছেন, কোনো জাত, ধর্ম কিংবা সম্প্রদায় হিসেবে নয়। তাঁর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। মানুষ সম্পর্কে বাংলার রুমির দৃষ্টিভঙ্গি নিম্নে উল্লিখিত কবিতার মতোই:
হিন্দুদের ঘরে জন্ম নেয় যে হিন্দু তারে কয় খ্রিষ্টানদের ছেলেমেয়ে খ্রিষ্টান পরিচয় মুসলমানদের ঘরে এলেই বলছি মুসলমান মায়ের ঘরের সন্তানেরা সবাই পুণ্যবান।
৩. মানুষের মর্যাদা ও বাংলার রুমি (Human dignity and Banglar Rumi):
প্রকৃতপক্ষে মানুষ হচ্ছে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব এবং এই জগত-সংসারের আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের চাবিকাটি মানুষের জন্যই নির্ধারিত। পবিত্র কুরআনে মানুষকে ‘ইনসান’ বা ‘নাস’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দিয়েছি, স্থলে ও সমুদ্রে চলাচলের জন্য ওদের বাহন দিয়েছি, ওদের জীবনের জন্য উত্তম উপকরণ দিয়েছি আর আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপরে ওদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (১৭:৭০) ‘অবশ্যই মানুষকে আমি সৌন্দর্যের দিক হতে শ্রেষ্ঠতম অবয়বে সৃষ্টি করেছি।’ (৯৫:৪) মানুষের জন্য খোদা প্রদত্ত শ্রেষ্ঠত্ব বুঝা যায় মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব ও স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে; কুরআনে কারিমের একাধিক জায়গায় মহান আল্লাহ মানুষকে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহই তোমাদেরকে পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) করেছেন।’ (৩৫:৩৯) ‘আমি মানুষকে পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করব।’ (২:৩০) সৈয়দ আহমদুল হকের মতে, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এই মানুষ যখন আল্লাহর খলিফার মর্যাদায় অভিষিক্ত হল তখনই ভূমণ্ডল এবং নভোমণ্ডলের সকল কিছুকে তার অধীনস্ত ও পদানত করে দেয়া হল। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি দেখ না, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তোমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করেছেন?’ (৩১:২০) ‘আর তিনি তোমাদের অধীন করেছেন নানা রকম জিনিস যা তোমাদের জন্য পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন।’ (১৬:১৩) সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা এবং সৃষ্টিকুলের তত্ত্বাবধানকারী এই মানুষকে সৈয়দ আহমদুল হক স্রষ্টার দেয়া অবস্থান ও মর্যাদার মাপকাটিতেই মূল্যায়ন করেছেন। মানুষের কদর ও সম্মান ছিল তাঁর কাছে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে; জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে তিনি পরম মমতায় আপন করে নিতেন। সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার লোকেরাই তাঁর কাছে সমান মর্যাদা পেত। সর্বোচ্চ পেশায় নিয়োজিত মানুষটি থেকে শুরু করে একেবারে কুলি-মজুর পর্যন্ত সবাইকে সমান মূল্যায়ন করতেন; ধর্ম বা সম্প্রদায়গত মতভেদের কারণে কাউকে কখনো তিনি ফিরিয়ে দেননি, হতাশ বা নিরাশ করেননি। ভক্ত কবি চণ্ডীদাসের অনেক আগেই পারস্যের মরমি কবি ওমর খৈয়্যামের কবিতায় মানুষের যে গুরুত্ব ফুটে উঠেছে, বাংলার রুমির জীবনে তাও প্রতিফলিত হয়েছে। খৈয়্যাম মানুষের মূল্যায়নে বলেছেন:
জগদীশ, এ বিশ্বে তোমার মানুষই সৃষ্টি মাঝে সার হে মানব, স্বর্গ হতে এ রহস্য হয়েছে প্রকাশ সারা বিশ্ব এক ধারে তোমাতেই পেয়েছে বিকাশ।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্মিলনে বাংলার রুমি এক সর্বজনীন ভালবাসার দুয়ার উন্মুক্ত করেছিলেন; সমাজের বিস্তৃত অঙ্গনে যার প্রভাব পড়েছিল। মানুষকে মানুষ হিসেবে যথাযথ সম্মান দানের মাধ্যমে যে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, সৈয়দ আহমদুল হকের মাধ্যমে আমাদের সমাজে তার এক নজির স্থাপিত হয়েছিল। নিজ ধর্মে আনুগত্য পোষণ, অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং মানুষের মর্যাদা দানে অকৃপণতার পরিচয় বহন করাই বর্তমান সময়ের অন্যতম দাবী।
৪. আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও বাংলার রুমি (Maintaining interfaith harmony and Banglar Rumi):
বাংলাদেশে বহু জাতি-গোষ্ঠীর বসবাস। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত হলেও এ দেশে আবহমানকাল থেকে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ মিলেমিশে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে জীবনযাপন করছে। অনেক সম্প্রদায় রয়েছে কিন্তু এ দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প নেই বললেই চলে। সে হিসেবে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির হাজার বছরের এক ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে। বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় যেসব কীর্তিমান মানুষ অবদান রেখেছেন, বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক তাঁদেরই অন্যতম। বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামের এই ক্ষণজন্মা সাধক পুরুষ আজীবন মানবতাবাদী অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করেছেন। আধুনিক বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও সম্প্রীতি সাধনে অনবদ্য ও অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছেন। বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হকের প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, জীবদ্দশায় প্রকাশিত অলৌকিকত্ব, মরমি ধ্যান ও সাধনা, সুফিতত্ত্বের গবেষণা, রুমি ও মসনভি চর্চা, সকলের জন্য ভালোবাসা, সর্বজনীন প্রেম- তার জীবনে এসব বিষয়ের অপরূপ সম্মিলন তাকে ‘ইনসানে কামেল’ তথা সত্যিকার অর্থে একজন পরিপূর্ণ মানবে পরিণত করেছিল। আর সে জন্যই আজকের সমাজে তিনি আমাদের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। আজকের সমাজে যে পারস্পরিক হানাহানি, একের প্রতি অন্যের যে অবিশ্বাস-অনাস্থা, যে সীমাহীন অস্থিরতা, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, অসহিষুষ্ণতা, সর্বোপরি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কবলে বিপর্যস্ত মানবতা- এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বাংলার রুমির জীবনাদর্শ, চিন্তা-দর্শন ও আধ্যাত্মিক সাধনা পদ্ধতির অনুসরণ ও বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। বাংলার রুমি আমৃত্যু রাসূলের (সা.) সুন্নাতের ইত্তেবা করেছেন এবং তিনি ছিলেন নবীপ্রেমের মূর্ত প্রতীক। বিশেষ করে ইসলামের ইতিহাসে অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও উত্তম ব্যবহারের যে অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন রাসূলের (সা.) চরিত্র-বৈশিষ্ট্যে প্রতিফলিত হয়েছে, বাংলার রুমি এ ক্ষেত্রে সুন্নাতে রাসূলের একান্ত অনুসরণ করেছেন; জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আপন মহিমা ও চারিত্রিক উৎকর্ষ দিয়ে তিনি সবাইকে কাছে টেনে নিতেন। অন্যদিকে বাংলার রুমির জীবদ্দশায় তার মাঝে আমরা কিছু কারামতের (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) বহিঃপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করেছি; যেগুলো তার সাধনালব্ধ অভিজ্ঞতায়, বিবৃতি বা ভবিষ্যদ্বাণীতে অথবা তার প্রেমময় ব্যবহারে পরিস্টম্ফুট হয়ে উঠেছে। ইসলামি মৌল আকিদা-বিশ্বাস মতে, ‘কারামাতুল আউলিয়ায়ে হাক্কুন’ অর্থাৎ অলিদের কারামত সত্য। এর মর্মার্থ হলো- আল্লাহর নির্বাচিত মাহবুব বান্দাগণ কর্তৃক প্রকাশিত কারামত সত্যের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ আর এ ধরনের অলৌকিকত্ব শুধু তার অলিগণের মাধ্যমেই প্রকাশমান হয়ে থাকে। বাংলার রুমির বরকতময় জীবনের, বিশেষ করে তাঁর দীর্ঘ জীবনের শেষ দশকে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার উচ্চমার্গে নিজেকে উপনীত করেন এবং তাঁর মাধ্যমে আমাদের সামনে সুফিতত্ত্বের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচিত হতে থাকে। তপস্যা ও আরাধনার অবিরাম পথযাত্রায় ক্রমে ক্রমে তিনি নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে থাকেন এবং জীবন সাধনার গোধূলিলগ্নে স্বীয় অবস্থানকে বেলায়েতের উচ্চতর মাকামে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সুন্নাতে নবুবির পাবন্দ হয়ে মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি বিধানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণকর্মে সময়াতিবাহিত করেছেন বলেই বাংলার রুমি এমন বরকতপূর্ণ জীবনের অধিকারী হতে পেরেছিলেন। তাই বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিতকরণে তাঁর নিরলস ও প্রাণান্তকর প্রয়াস আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।
৫. জালালুদ্দিন রুমির মানবতাবাদকে বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রিয়করণ (Popularizing Jalaluddin Rumi’s humanism in the Bangladeshi context):
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক পারস্যের মহান মানবতাবাদী দার্শনিক, কবি ও অধ্যাত্মবাদের প্রাণপুরুষ জালালুদ্দিন রুমির ভাবনা, মানবিক মর্যাদা, প্রেম, আত্মপরিচয়— ইত্যকার বিষয়াদিকে বাংলায় সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা ও প্রচার করে জনপরিসরে ছড়িয়ে দেন; এতে ধর্ম-সংস্কৃতি ভেদ নয়, “মানুষ আগে”— এই বোধটাই দৃশ্যমান ও পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। তাঁর চিন্তাজগতে ভর করেছিলো অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন-সাধনা, জাতি-ধর্ম আর বহু মত-পথের ভেদাভেদ ভুলে এক প্রভুর সৃষ্টি মানুষকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ আর নৈতিক-চারিত্রিক উৎকর্ষতার প্রেরণা। এসব বাস্তবায়নের তাগিদ থেকেই তিনি বেছে নিয়েছেন মসনভি চর্চা ও রুমি দর্শনের আলোকে মানবচিত্তে শান্তির খোরাক দেওয়া। আর তা করতে গিয়েই সুফিতত্ত্বের গভীরে প্রবিষ্ট হয়েছেন; কুড়িয়ে এনেছেন অমূল্য সব রত্নরাজি। রুমির প্রেম দরিয়ায় অবগাহন করে নিজেকে যেমন স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ করেছেন তদ্রুপ সমাজ ও পারিপার্শ্বিক পরিমণ্ডলকেও সাজাতে চেয়েছেন আপন মহিমায়। মসনভির কাহিনী ও মর্মবাণী হৃদয়ে ধারণ করে অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে ব্যক্ত করেছেন মানব-মনের আসল কথাগুলো। তিনি স্থান, কাল ও পাত্র বিবেচনা করে যথোপযুক্ত বিষয়টিই নির্বাচন করেছেন ধ্যানী ও সাধকের প্রতিচ্ছবি হয়ে। মানুষ যা চিন্তা করে, যা প্রত্যাশা করে- সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমন্বয় সাধন করেছেন তাঁর কর্মময় জীবনে এবং আদর্শের ছাপ রেখে গেছেন তাঁর দর্শনে, যা সকলের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। তাঁর দর্শনের মূলকথা হলো- সর্বজনীন প্রেম। তিনি রুমির ভাব সিঞ্চন করে যার সংজ্ঞা নির্দেশ করেছেন এভাবে- ‘প্রেম একটি অগ্নি শিখার ন্যায়; যখন এটি জ্বলে উঠে তখন তা প্রেমাস্পদকে ছাড়া বাকি সব কিছু জ্বালিয়ে ফেলে।’ ফরিদুদ্দিন আত্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রেম হলো নিজ অস্তিত্ব হতে মুক্ত হওয়া এবং অবিনশ্বর আল্লাহর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।’ এ প্রেমের শক্তি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘হৃদয়ে প্রেম থাকলে কাঁটার আঘাতকে চন্দনের স্পর্শ বলে মনে হয়। এক্ষেত্রে মহাত্মা রামের (৫১১৪-৫০৭৫ খ্রি. পূ.) স্ত্রী সিতার উক্তি প্রণিধানযোগ্য-
তব সঙ্গে থাকি যদি কাঁটা লাগে গায় অগুরু চন্দন চুয়া জ্ঞান করি তায়।
বাংলার রুমি বলেন, হৃদয়ে প্রেম ছিল বলেই হযরত ইউসুফ (আ.)-এর কাছে কারাগারকে আরাম নিবাস মনে হয়েছিল আর হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে নমরুদের অগ্নিকুণ্ড পুষ্পোদ্যানে পরিণত হয়েছিল। একইভাবে হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্তঃকরণে খোদাপ্রেম ছিল বলেই তাঁর ফুঁতকারে মৃত মানুষ জীবন ফিরে পেত। প্রেমের সঠিক সংজ্ঞা প্রদান বাস্তবিকই এক কঠিন ব্যাপার তা স্বীকার করে তিনি বিশ্বখ্যাত দার্শনিক বেকন (১৫৬১-১৬২৬ খ্রি.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘It is impossible to love and to be wise’ অর্থাৎ প্রেম করা এবং একই সময়ে বুদ্ধিমান থাকা অসম্ভব। একইসাথে তিনি উইলিয়াম সেক্সপিয়ারের (১৫৬৪-১৬১৬ খ্রি.) প্রেমবিষয়ক উক্তির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এভাবে- ‘প্রেম চোখ দিয়ে দেখে না, মন দিয়ে দেখে। সেজন্য পাখাযুক্ত প্রেম দেবতাকে অন্ধ করে চিত্রিত করা হয়।’ আবার প্রেমের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় তিনি বেকনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বিবাহিত প্রেম মানবজাতি সৃষ্টি করে, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেম একে পরিপূর্ণতা দেয়; কিন্তু লাম্পট্য প্রেম একে কলুষিত ও হেয় করে।’ সবশেষে বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি প্রেমের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন- ‘যে প্রেম করে না, সে ঈশ্বরকে জানে না; কারণ ঈশ্বরই প্রেম।’ তিনি আরো বলেন, মানব-হৃদয়ে আল্লাহ যে প্রেম দিয়েছেন তা তাঁর অসংখ্য দানের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ দান। আর খোদার পক্ষ হতে প্রদত্ত এই শ্রেষ্ঠ দান ‘প্রেম’ ছিল বাংলার রুমির জীবনের একমাত্র ব্রত, জীবন-দর্শন। তাঁর দর্শনের মূলকথা জালালুদ্দিন রুমি ও তাঁর মসনভি থেকেই উৎসারিত হয়েছে। তিনি সবসময় রুমির নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে তাঁর दर्शन ব্যাখ্যা করতেন। সেটি হলো:
شاد باش اي عشق خوش سوداي ما اي طبيب جمله علت هاي ما অর্থ: ‘ধন্য হও হে আনন্দিত প্রেম! ওহে আমার সুখময় মগ্নতা, ওহে আমার সকল রোগের চিকিৎসক!
বাংলার রুমি তাঁর হৃদয়ে আমৃত্যু এই প্রেমকেই লালন ও ধারণ করে গেছেন এবং জালালুদ্দিন রুমির মসনভি ও অন্যান্য রচনার আলোকে তাঁর মানবতাবাদকে বাংলাদেশে তিনি জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এছাড়াও তিনি শেখ সাদি শিরাজি, উমর খৈয়্যাম, হাফিজ শিরাজি, আবদুর রহমান জামিসহ বিভিন্ন ভাষার বিশ্বখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, চিন্তক, দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানীদের বক্তব্যসমূহকে Analyses/বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের উপাদানগুলোকে তুলে ধরেছেন।
৬. রুমি দর্শনের মূলনীতি (Principles of Rumi’s Philosophy):
ফারসি উদ্ধৃতি: بیا، بیا، هر آنچه که هستی بیا. (তুমি যে-ই হও না কেন; এসো, এসো।)
বাংলা ব্যাখ্যা: রুমির এই আহ্বান ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্যই উন্মুক্ত— এটাই অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রকৃত মর্ম; যা বাংলার রুমি তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাঙালি সমাজে। এখানে আমরা তাঁর ব্যবহৃত রুমির ভাবানুবাদ বাংলায় উল্লেখ করছি:
- “তুমি যে জাতেরই হও, এসো— এখানে ভালোবাসাই শেষ কথা।”
- “ঈশ্বরের দিকে যাবার রাস্তা হাজারো, কিন্তু লক্ষ্য এক।”
এভাবেই বাংলার রুমি আমাদের বারবার প্রেম, আলো এবং ভালোবাসার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে পা রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, যাত্রা হলো বারবার হৃদয়ে ফিরে আসারই চূড়ান্ত অবস্থা।
৭. ধর্মগ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি (Quotes from religious texts):
পবিত্র কুরআনের সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে আছে: “হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে জানতে পার।” বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক উপরিউক্ত ঘরানার পবিত্র আয়াতসমূহকে মানবিক বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের ভিত্তি হিসেবে তাঁর রচনায় ব্যাখ্যা করেছেন।
এছাড়াও তিনি বাইবেল, গিতা, ত্রিপিটক, বেদসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও নানান উদ্ধৃতি ও মর্মবাণীর উল্লেখ করে এ বিষয়ে তাঁর লেখনিকে সমৃদ্ধ করেছেন।
৮. জ্ঞানচর্চা ও সংলাপ-ভিত্তিক অন্তর্ভুক্তি (Knowledge and dialogue-based inclusion):
বাংলার রুমি তাঁর রচনাকে সমানভাবে দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি, ঐতিহাসিক বোধ ও কাব্যিকতা একসঙ্গে সমন্বয়পূর্বক উপস্থাপন করেছেন— যা মানুষ ও মানবতাবাদের বিষয়ে মতভেদ কমিয়ে ‘সংলাপ’কে সকল কাজে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে বিভিন্ন মতের মানুষকে কথোপকথন ও আলোচনায় নিয়ে আসার এই কৌশল সত্যিই কার্যকর। বাংলার রুমি সমাজের নানান জাতি, গোষ্ঠীর মানুষকে তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন এবং তাদের সামনে মানবতাবাদের অমীয় কথাগুলো তুলে ধরতেন।
৯. রুমি সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম (Initiative to establish Rumi Society: Institutional Platform):
বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে ও রুমি-চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ১৯৯২ সালে বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামে যে ‘আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশ’ গড়ে ওঠেছে, তার প্রতিষ্ঠাতা, সূচনা-চেতনা ও অনুপ্রেরণায় ছিলেন বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক; এই প্ল্যাটফর্ম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, আধ্যাত্মিক-সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনশিক্ষা বিষয়ক নানান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে; যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে চলেছে। এ সোসাইটি গঠনের পেছনে বাংলার রুমি যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন তা থেকেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পেয়ে থাকি। তিনি বলেন:
“We are living in a strife torn world. Nations are fighting against nations. Human rights are being violated in every country. Man-slaughter is rampant everywhere. Man’s inhumanity to man is making countless thousands mourn. Man is running after peace; but it is eluding him all the time. What is the remedy? The only remedy is love. God is love. He created the universe out of love. Allama Jalaluddin Rumi was the first Sufi Darvish who preached most effectively love as the remedy for all the ills of the human society. Allama Rumi Society was set up in Chittagong in 1992 to realize and propagate the cult of love preached by Maulana Jalaluddin Rumi. It is a nonpolitical and non-sectarian society. It strictly adders to pure Islam and rests on the five pillars of Islam, namely Profession of faith (Shahadah), Prayer (Salah), Charity (Zakah), Fasting (Siam) and Pilgrimage (Hajj). It demolishes the barriers of race, color, nationality and sects.”
১০. জাতি-বিদ্বেষের বিপরীতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা (Direct role in promoting inter-religious harmony against racism):
আমরা বাংলার রুমির জীবন ও কর্মে জাতি বা ধর্ম-বৈষম্য পরিহার ও সমাজ থেকে তার অবসান ঘটাবার প্রয়াস দেখি। ‘বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বিকাশে বাংলার রুমি’ শীর্ষক সেমিনার-প্রোগ্রাম ও গণমাধ্যম আলোচনা বাংলার রুমির কাজকে মানবিক, উদার ও সম্প্রীতি-বান্ধব নীতির সাথে যুক্ত করে জনচেতনায় বিশেষ অবদান রেখে চলেছে— যা অন্তর্ভুক্তিমূলকতার এক বাস্তব চর্চা।
১১. রুমির মানবতাবাদ বনাম গোঁড়ামি (Rumi’s Humanism vs. Dogmatism):
মসনভি থেকে ফারসি উদ্ধৃতি: ملت عشق از همه دینها جداست (প্রেমের জাতি সব জাত-ধর্ম থেকে আলাদা)
বাংলা ব্যাখ্যা: ভালোবাসাই মানবতার সত্যিকারের পরিচয়। বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক দেখান, এই ধারণা সমাজে ভেদাভেদ দূর করতে সহায়ক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সকল প্রকার গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ একে অন্যকে ভালোবাসা ও সহানুভূতির বন্ধনে আবদ্ধ হবে— এই আহ্বান রেখেছেন।
১২. সুফি-ঐতিহ্য ও মাইজভাণ্ডারী সন্ন্যাস-ধারার মানবমুখী মূল্যবোধ (The humanistic values of Sufi tradition and Maizbhandari monasticism):
পারিবারিক-আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের ধারায় মাইজভাণ্ডারী তরিকার উদার, লোকাল-নির্ভর সুফি চেতনা সমাজে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বর্গ, সম্প্রদায়-উর্ধ্ব মানবিক সংহতি জোরদার করে— যা বাংলার রুমির চিন্তায়ও বলিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলার রুমি তাঁর পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ মাইজভাণ্ডারী ধারার সাথে জালালুদ্দিন রুমির উদারতা ও মানবিকাদর্শের অভূতপূর্ব সমন্বয় রেখে প্রচার করেছেন। এর পেছনে তাঁর মহতি লক্ষ্য ছিলো, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র— সব ভেদ অতিক্রম করে “মানুষই মানুষের ভাই” এই চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া, বিকশিত করা; যা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের এক উপাদান।
১৩. ভাষান্তর/ভাবানুবাদে সহজপ্রাপ্যতা তৈরি (Making translation/interpretation accessible):
রুমির জটিল আধ্যাত্মিক ধারণা তিনি বাংলায় সরল ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেন। এতে বিশেষ করে তরুণ ও সাধারণ পাঠক-শ্রোতারা সহজে সম্পৃক্ত হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে সমাজে এক ধরনের খুবই উপযোগী অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্ঞানপ্রবাহ তৈরি হয়। বাংলার রুমি তাঁর অন্তরের অভিব্যাক্তি প্রকাশ ও রচনাবলিকে প্রণয়ন করতে গিয়ে তিনি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, ফারসি, আরবি, উর্দু ও সংস্কৃতের মতো সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক ভাষাসমূহ ব্যবহার করেছেন।
১৪. বৈষম্য নিরসনে বাংলার রুমি (Banglar Rumi to address inequality):
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক সমাজে ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের বৈষম্য দূর করতে ভালোবাসা, ন্যায়, আধ্যাত্মিকতা ও শিক্ষার সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রকৃত সমতা ও বৈষম্যহীনতা প্রতিষ্ঠা হয় মানুষের হৃদয়ে প্রেম জাগ্রত হলে। বাংলাদেশে বৈষম্য নিরসনে বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সুফি-আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবাদী দর্শন এবং রুমির শিক্ষা ব্যবহার করে সমাজে ন্যায়, সাম্য ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
বাংলার রুমি ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানুষের মধ্যকার কৃত্রিম বিভাজন ভাঙতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি প্রচার করতেন— “সব মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, তাই বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।” ফলে, সামাজিক ও ধর্মীয় বৈষম্য নিরসনে তাঁর শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করতেন; সমাজের গরিব, শ্রমজীবী ও বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতেন এবং তাদের শিক্ষা, নৈতিক উন্নয়ন ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এভাবে সমাজের বৈষম্য নিরসনে তিনি দরিদ্রদের আত্মপ্রতিষ্ঠা ও সম্মান অর্জনকে অপরিহার্য মনে করতেন।
এছাড়া, তিনি রুমির দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত ন্যায় ও ভালোবাসার শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে বোঝাতেন— প্রেম ও ভালোবাসা ছাড়া প্রকৃত সমতা সম্ভব নয়। মানুষের অন্তরে যদি ভালোবাসা জাগ্রত হয়, তবে ধনী-গরিব, উচ্চ-নীচ ভেদাভেদ মুছে যাবে। এভাবে তিনি সমাজে মানসিক বৈষম্য হ্রাসের চেষ্টা করেছেন। সামাজিক ন্যায়বোধ ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় বিষয়ে তিনি জোর দিয়েছিলেন, কেবল আইন দিয়ে বৈষম্য দূর করা যায় না; বরং মানুষের হৃদয়ে ন্যায়বোধ জাগাতে হবে— এই উপলব্ধি তিনি প্রচার করতেন। এজন্য তিনি সুফি আধ্যাত্মিকতা, কবিতা ও নৈতিক শিক্ষাও ব্যবহার করেছেন এবং এসবের মাধ্যমে মানুষকে সমতা, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত ভূমিকাও এ বিষয়ে প্রণিধানযোগ্য। বৈষম্য নিরসনে তিনি শিক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোয় দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষকে মানবিক ও সমান মর্যাদার দাবিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
১৫. জনপরিসরে সুফি-নৈতিকতা: কুসংস্কার-বিরোধী, মুক্তবুদ্ধির ডাক (Sufi morality in the public sphere: A call for anti-superstition and open-mindedness):
বাংলার রুমি প্রচারিত সুফি-নৈতিকতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি গোঁড়ামিবিরোধী, মানবিক মূল্যবোধ-ভিত্তিক ও কর্মনিষ্ঠ; এর প্রভাব সমাজে বিভাজন কমিয়ে ‘সাধারণ কল্যাণ’-মুখী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১৬. সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বাংলার রুমি (Banglar Rumi in ensuring social justice):
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সুফি-মানবতাবাদী দর্শন, রুমির শিক্ষার প্রয়োগ, দরিদ্রদের পক্ষে অবস্থান, আধ্যাত্মিক ভালোবাসা ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে তিনি সুফিবাদ ও রুমির দর্শনকে বাংলার সমাজে প্রচার করে মানুষকে ন্যায়, সাম্য ও মানবপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠীভেদ অতিক্রম করে এক মানবতার ছায়াতলে আসার আহ্বান জানাতেন। তাঁর মতে, সামাজিক ন্যায়বিচার তখনই সম্ভব যখন সমাজে অহংকার, বৈষম্য ও বিভাজন দূর হয়। তিনি মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহনশীলতার শিক্ষা দিয়েছেন, যা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অন্যতম সহায়ক উপাদান।
একইসাথে তিনি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন। শিক্ষা, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক চর্চার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে তিনি ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর আখলাকি ও ধর্মভিত্তিক শিক্ষা গ্রামীণ সমাজে অন্যায়ের প্রতিবাদ ও ন্যায়ের দাবি উত্থাপন করেছে। আমরা দেখতে পাই, রুমির মতোই সৈয়দ আহমদুল হক ভালোবাসাকে ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি মনে করতেন— ভালোবাসা ছাড়া ন্যায় সম্ভব নয়। আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে ন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলা ছিল তাঁর কাজের অন্যতম অংশ।
তিনি কেবল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক শিক্ষক ছিলেন না, বরং সমাজে ন্যায়ের দাবিকে তিনি রাজনৈতিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সামাজিক অসাম্য দূরীকরণ ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর বক্তব্য ও কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রুমির কবিতা ও দর্শন ব্যবহার করে তিনি সমাজকে বুঝিয়েছেন যে, ন্যায়বিচার মানে শুধু আইনগত বিষয় নয়, বরং মানবিক ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্য। মোটকথা, তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন— যেখানে মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও সমতা নেই, সেখানে প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচার নেই।
১৭. জ্ঞানভিত্তিক নেটওয়ার্ক ও উত্তরাধিকার নির্মাণ (Developing knowledge-based networks and legacy):
বাংলার রুমির সংকলিত রচনাবলি প্রকাশ, বই উন্মোচন ও আলোচনাচক্র— স্কলার, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যকার এক চমকপ্রদ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে; অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে জ্ঞান-সম্পদ ও বুদ্ধিবৃত্তিকতার ভাগাভাগি অপরিহার্য। একইসাথে আমরা প্রত্যক্ষ করে চলেছি যে, তাঁর পারিবারিক সুযোগ্য উত্তরাধিকারীগণ, বিশেষ করে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এমনকি তাঁর দৌহিত্রদের কেউ কেউ উত্তরাধিকার পরম্পরায় বাংলার রুমির জ্ঞানভিত্তিক এই নেটওয়ার্ককে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক জনপরিসরে ছড়িয়ে দিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তাঁর সম্পন্নকৃত কর্মপরিধিকে আরো অধিকতর বিকশিত ও বিস্তৃত করতে সময়োপযোগী কার্যক্রম এখনো পরিচালনা করে চলেছেন।
১৮. জীবন-দর্শনের ধারাবাহিকতা: ব্যক্তিজীবনে সুফি-সাধনা (Continuity of philosophy of life: Sufi practice in personal life):
আজীবন সুফি-সাধনায় নিমগ্ন থাকার বিষয়টি বাংলার রুমির চিন্তা-ভাবনা ও বাস্তবজীবনের সামঞ্জস্যকে অধিকতর মজবুত করেছে— যা সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে এবং অনুগামী ও অনুসারী সম্প্রদায়কে যথেষ্ট উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করে।
১৯. নীতি-সংক্ষেপ (Policy takeaway):
- (ক) সব শ্রেণির পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় আধ্যাত্মিক-নৈতিক শিক্ষার জন-মুক্ত পাঠ্য তৈরি
- (খ) নিয়মিত আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসংস্কৃতি সংলাপ-ফোরাম
- (গ) স্থানীয় সুফি ঐতিহ্যকে নাগরিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি
- (ঘ) তরুণদের জন্য ‘রুমি-পাঠ ও সেবামূলক কর্মশালা’— এসব উদ্যোগ বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হকের কার্যক্রমের যৌক্তিক ব্যাপ্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের নিরন্তর প্রয়াস হিসেবেই আমরা দেখি।
২০. বাংলার রুমির লালিত স্বপ্ন (Banglar Rumi’s cherished dream):
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের সমন্বয়ে একটি উদার, মানবিক, প্রেমময়, শান্তিপূর্ণ, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতিময়, অসাম্প্রদায়িক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর আমৃত্যু স্বপ্ন-সাধনা।
২১. বাংলার রুমির মহাপ্রয়াণ:
৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ সোমবার (মানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনবি মোহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস সোমবার, সৈয়দ আহমদুল হকেরও জন্ম ও ওফাত দিবস সোমবার; এটি নিঃসন্দেহে বরকতময়) তিরানব্বই বছর বয়সে এ নশ্বর জগত পরিত্যাগ করে তিনি মহান স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়ে আলমে মালাকুতে পাড়ি জমিয়েছেন।
বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক (রহ.)-এর মহান আদর্শ ও জীবনদর্শন আমাদের মাঝে রয়েছে। রয়েছে তাঁর সুফিতাত্ত্বিক গবেষণা ও অধ্যাত্মবাদের সাধনাপদ্ধতি। আরো আছে তাঁর প্রেমদর্শন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার উপাদান; এসবের আলোকে আমরা আমাদের জীবন, সমাজ ও সামগ্রিক পরিমণ্ডকে আলোকিত করতে পারি। মহান আল্লাহতায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন (আমিন)।
লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন | গবেষক, চিন্তক ও ধর্মতত্ত্ববিদ এবং সাবেক চেয়ারম্যান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
