Thursday, September 17

১৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে ইলেকট্রিক ট্রেন

|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন। বহুপ্রত্যাশিত এই প্রকল্প এবং রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেলসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে বিকেলে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

অনুমোদিত ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত।

বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রকল্পে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে এই ট্র্যাকশনব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেনের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকল্প সম্পর্কে জোনায়েদ সাকি জানান, এই রুটে ডুয়েলগেজের ট্র্যাকলাইন তৈরির ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। লাইনটি প্রস্তুত হলেই ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে কমিউটার ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে।

অন্যান্য বড় প্রকল্পের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩ ৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা সংশোধিত ব্যয়ে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পাতাল মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-১) এবং ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সংশোধিত ব্যয়ে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৫, নর্দার্ন রুট) অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) নির্মাণে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ, মহাসড়ক উন্নয়ন, নতুন সেনানিবাস স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি সংশোধিত ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে। ঢাকায় সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল ও ইলেকট্রিক ট্রেন বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *