
|| ড. গোলাম মোস্তফা | রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
কার্তিক মাসের শুরুতেই ফুলজোড় নদীর পাড়ের জনপদ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জানান দিচ্ছে শীতের আগাম বার্তা। ভোরের ঘন কুয়াশা আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে ফুটিয়ে তুলছে দারুণভাবে। ফুলজোড় নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে হেমন্তের প্রারম্ভেই অনুভূত হচ্ছে মৃদু শীতের পরশ। আর এই আগাম পরিবেশকে ঘিরে রায়গঞ্জের সর্বত্রের মানুষের জীবন যাত্রায় শুরু হয়েছে নানা কর্ম চাঞ্চল্য ও শীতের প্রস্তুতি।
বিশেষ করে, ফুলজোড় নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে এখন চলছে রবি শস্য ও শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক তোড়জোড়। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় পলি জমে উর্বর হওয়া জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নতুন মৌসুমে মুলা, লাল শাক, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, শিম, বেগুন, ওলকপি, পেয়াজ, রসুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ও আগাম জাতের আলু রোপণে ব্যস্ত তারা।
জাঁকিয়ে শীত আসার আগেই যেন ফসল হাটে-বাজারে তোলা যায় এ লক্ষ্যে কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে জমি প্রস্তুত, বীজ বপন ও চারা রোপণের কাজ। উপজেলার ব্রহ্মগাছা, ধানগড়া, পাঙ্গাশী, নলকা ইউনিয়ন ও রায়গঞ্জ পৌরসভার নদী ঘেষা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা নাঙ্গল- ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষে ঝরঝরে করছেন, তৈরি করছেন বীজতলা। আবার অনেকে ক্ষেতে সেচ দেয়া ও নিড়ানির কাজে ব্যস্ত।
নওগাঁ গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান জানান, তিনি ৩৩ শতক জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন, খরচ ধরেছেন ৪০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজার দর ভালো পাওয়া গেলে খরচ বাদে আরও ৪৫ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি।
রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, নদীতে বন্যায় পলি জমে চরের মাটি বেশ উর্বর হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক সময়ে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সর্বদা কৃষকের পাশে থেকে নানা পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় ৭৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬৭০ জমিতে। হঠাৎ বৃষ্টিতে একটু ক্ষতি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
