
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজধানী ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। আজ বুধবার (২০ মে) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান এই বর্বরোচিত ঘটনার দ্রুত বিচার এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো পৈশাচিক ঘটনাগুলোর মূল কারণ হিসেবে সমাজের চরম নৈতিক অবক্ষয় ও পশ্চিমা সংস্কৃতির নগ্ন প্রভাবকে দায়ী করেন তিনি।
বিবৃতিতে মোস্তফা তারেক বলেন, মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী অবুঝ শিশু রামিসাকে যেভাবে ঘরের ভেতর থেকে তুলে নিয়ে নির্মম ও ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে, তা সভ্য সমাজের কোনো স্তরেই কল্পনা করা যায় না। শুধু ঢাকা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট, ঠাকুরগাঁও ও মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোমলমতি শিশুদের ওপর যে ভয়াবহ পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার উৎসব চলছে, তা প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আমাদের সমাজে মানুষের ভেতর থেকে মনুষ্যত্ব সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে। পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং অপসংস্কৃতির অবাধ প্রসারের ফলে তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে বিকৃত মানসিকতার মারাত্মক সয়লাব ঘটেছে। যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও নিষ্পাপ শিশুদের।
সংগঠনের নীতি ও আদর্শের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা বলেন, কেবল প্রচলিত দুর্বল আইন কিংবা বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দিয়ে এই পৈশাচিক বর্বরতা রুখে দেওয়া সম্ভব নয়। সমাজকে এই চরম অন্ধকার ও নৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে মুক্ত করতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি জোরালোভাবে বলেন, মানব রচিত প্রচলিত আইন আজ সমাজকে পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অবক্ষয় থেকে সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে পারে একমাত্র চিরন্তন ইসলামী অনুশাসন এবং ধর্মীয় শিক্ষার কঠোর বাস্তবায়ন। আল্লাহর আইন ও রাসুলের (সা.) আদর্শ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থাপনাই পারে মানুষের মনে অপরাধের বিরুদ্ধে প্রকৃত ডর-ভয় এবং তাকওয়া তৈরি করতে।
বিবৃতির শেষে মোস্তফা তারেক অনতিবিলম্বে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ঘাতক সোহেল রানাসহ দেশের সকল শিশু হত্যাকারী ও ধর্ষকদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের অধীনে এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। অপরাধীদের এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই ভবিষ্যতে সমাজ থেকে এই ধরনের নিকৃষ্ট অপরাধ দূর করতে এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
