Saturday, October 24

নাগেশ্বরীতে আমন ধান ক্ষেতে খোল পচা রোগের আক্রমণ

|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

‎নাগেশ্বরীতে আমন ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ছত্রাকজনিত খোল পচা বা খোল পোড়া রোগ। ব্যাহত হতে পারে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষক।

‎কৃষি অফিস জানায়, এবারে উপজেলায় ২৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিপরীতে ২৪ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন কৃষক। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টরপ্রতি গড়ে ৩.২০ মেট্রিক টন (চালের আকারে) হিসেবে মোট ৭৮ হাজার ২৩৯ মেট্রিক টন চাল।

‎এছাড়া এ এলাকার দুই ফসলি জমিগুলোকে তিন ফসলিতে রূপান্তরের চেষ্টায় কৃষক ৩৬৮৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধানের চাষ করেছেন। সেগুলোতে এখন বাতাসে দুলছে ধানের শীষ। কয়েকদিন পরে তা কৃষকের গোলায় উঠবে। এতে বিশেষ সাফল্যের আশা। যা দিয়ে অগ্রাহয়নে নবান্নের ঐতিহ্য পালন সম্ভব।

‎এদিকে আমন ধান ক্ষেতে কেবল বের হচ্ছে শীষ। এসবের অনেকগুলোতে থোড় আসার সময়েই দেখা দেয় ছত্রাকের আক্রমণে খোল পচা বা খোল পোড়া রোগ। প্রথমে পাতার খোলের উপর অনিয়মিত আকৃতির ধুসর বা কালচে দাগ পড়ে। পরে ধীরে ধীরে পচে যায় সম্পুর্ণ খোলটি। ঠিকমত বের হতে পারে না শীষ। বের হলেও তা চিটা হয়ে যাবে। ফলে আক্রান্ত যেসব ক্ষেতে শীষ বের হয়েছে তা চিটা হয়ে যাওয়ার আশংকাই বেশি। দেখা দিতে পারে ফলন বিপর্যয়।

‎সাধারণ চোখে খোল পচা রোগে আক্রান্ত ক্ষেত দেখলে মনে হবে কেউ আগুন দিয়ে পুড়ে দিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে চলতি আমন মৌসুমে অতিরিক্ত আদ্রতা, ঘন ঘন বৃষ্টিপাতে জমিতে দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকা, মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টিপাত জনিত আবহাওয়ার কারণে জমিতে ছত্রাকজনিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

‎বামনডাঙ্গার সেনপাড়ার বিনোদ জানান, নিজের ও বর্গা মিলে তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছেন। নিয়মিত পরিচর্যায় ধানগাছগুলো বেশ সতেজ ও পুষ্ট হয়েছিল। থোড় আসার সময় হঠাৎ করে এ রোগ দেখা দেয়ায় আশানুরূপ ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনি।

‎পৌরসভার পূর্ব সাঞ্জুয়ারভিটার আনিছুর রহমান স্বপন জানান, খোল পচা রোগে আক্রান্ত তার সম্পূর্ণ ধান ক্ষেত। দেখা দিয়েছে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা। এ অবস্থায় তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

‎প্রায় একই অবস্থা ঐ এলাকার প্রান্তিক চাষী হামিদুল হক, শহিদুল ইসলাম, লিটন আহমেদসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষকের। তারা জানান, শেষ মুহুর্তে এ রোগের আক্রমণে তাদের স্বপ্ন মার খেতে বসেছে। এ অবস্থায় চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, আক্রমণ তীব্র হলে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে আক্রান্ত জমিতে এজোক্সিস্ট্রোবিন ও ডাইফেনোকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় বিকেলে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *