
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য, শুভেচ্ছা বার্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ এরশাদ উল্যাহ ভূঁইয়া ও সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোস্তফা তারেকুল হাসান এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, অমুসলিমদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব হলেও সম্প্রীতির নামে ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতাদের অসতর্ক এবং অসংবেদনশীল বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। বিশেষ করে দেবী দুর্গার আবির্ভাব নিয়ে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ইসলামের একমাত্র স্রষ্টা ও পালনকর্তার তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই রাষ্ট্রপতিকে অবিলম্বে তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তা প্রত্যাহার করতে হবে।
একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের অতি-উদারতা, পূজায় অংশগ্রহণ এবং আকিদাবিরোধী মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তাঁরা। নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক স্পষ্ট করেছেন যে—অমুসলিমদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও কোনো মুসলমান যদি নমনীয়তা বা উদারতার নামে পূজায় শরিক হয় কিংবা তা সমর্থন করে, তবে তার ইমান থাকবে না। নিরাপত্তা প্রদান আর শিরককে আকিদাগতভাবে সমর্থন দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের নেতৃদ্বয় বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে মুসলমানদের ইমান ও আকিদাকে উপেক্ষা করে কখনোই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁরা দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বস্তরের নাগরিক নিরাপত্তা সুরক্ষার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা যদি আকিদাবিদ্বেষী বক্তব্য প্রত্যাহার ও সংবেদনশীল আচরণ না করেন, তবে সচেতন আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসলমানরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে বাধ্য হবেন।
