
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সোমবার (৮ জুন) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। সেই আলোকে কেসিসিও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং নগরবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় বাজার এলাকার ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, বাজারভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কমিটি গঠন, ইজিবাইকের ব্যাটারিজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সঙ্গে কেসিসির সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসির কনজারভেন্সি বিভাগ সভায় জানায়, মহানগরীর বড় ড্রেন ও খালগুলো ইতোমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। মশক নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় আরও গতিশীল করা হয়েছে। তবে কিছু ছোট ড্রেন পরিষ্কারের কাজ এখনও বাকি রয়েছে, যা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই শেষ করা হবে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারণা জোরদার করতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়েরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক সভা আয়োজন, নির্দিষ্ট দিনে সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অভিযোগ গ্রহণের জন্য অ্যাপ ও হটলাইন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কেসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে কেসিসি প্রশাসক নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি ওয়ার্ডটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংস্থাটিকে দেওয়া হয়েছে।
পরে তিনি গল্লামারী সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
