Thursday, September 17

চিলমারী থেকে ৬৭টি বাঁশের ভূড় নিয়ে আটরশির উদ্দেশে ভক্তদের যাত্রা

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

ফরিদপুরের সদরপুরে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের (আটরশি) বিশ্ব উরস শরীফ সফল করার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ৬৭টি বর্ণিল বাঁশের ভূড় (ভেলা) নিয়ে দীর্ঘ নৌযাত্রা শুরু করেছেন আশেকান ও জাকেরান ভক্তরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ফজরের নামাজের পর রংপুরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত ভক্তরা চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নদীপথে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে উত্তরবঙ্গের ‘নজরানার বাঁশের ভূড়’ বিদায়ী মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাকের মঞ্জিলের খাদেম হযরত মাওলানা মুফতী মাসুদুর রহমান হামিদী।

চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ভূড় তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা মো. ইউসুফ আলী জানান, ভক্তদের এ বহরে মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৩টি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪টি ভূড় রয়েছে। প্রতিটি ভূড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ভক্ত অবস্থান করছেন।

লালমনিরহাটের চয়নি কান্ত ও চিলমারীর তপন কুমার জানান, একই সাথে ভূড়গুলো ছেড়ে নদীপথ পাড়ি দেবে এবং জাকের মঞ্জিলে আয়োজিত মহা সমাবেশে সমবেত হবে।

স্থানীয়ভাবে কয়েক শ বা হাজারো বাঁশ একত্রে বেঁধে এসব বিশালাকৃতির মজবুত ভূড় বা ভেলা তৈরি করা হয়। দীর্ঘ নদীপথে অবস্থানের সুবিধার্থে ভেলাগুলোতে থাকার জন্য ছোট ছোট ঘর বা ছাউনি প্রস্তুত করা হয়, যেখানে রান্নাবান্না, বিশ্রাম ও বাথরুমের সুব্যবস্থা থাকে।

ইঞ্জিনবিহীন ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল এ ভেলাগুলো মূলত লগি, বৈঠা ও নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যাত্রা শুরু করে তিস্তা, যমুনা ও পদ্মার বুক চিরে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের আটরশি ঘাটে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগে।

যাত্রাপথে প্রতিটি ভূড়ে লাউডস্পিকার বেঁধে আল্লাহর জিকির, হামদ-নাত ও মোর্শেদি গান পরিবেশন করা হয়। নদীজুড়ে সারি সারি ভেলার এই প্রবাহ এক উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশের ভূড় নিয়ে আটরশি দরবার শরীফের উদ্দেশে যাত্রা করা চিলমারী অঞ্চলের ভক্তদের এক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক রীতিনীতি। ভক্তরা উরস শরীফে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উন্নয়নকাজের উপহার বা ‘নজরানা’ হিসেবে এই বাঁশগুলো বহন করে নিয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *