Thursday, September 24

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চার আসামি গ্রেপ্তার

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি, (খুলনা) ||

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ভোররাত পর্যন্ত খুলনা, পিরোজপুর, বরিশাল ও গোপালগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন—হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০), তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫), প্রতাপ সরকার (২৮) ও শেখ আসিফ হোসেন (২৮)।

মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হন হাসনাত হাবিব রিফাত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬ খুলনা ও এসআরবি-৮ বরিশালের যৌথ দল। রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৬তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী।

রিফাতকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হল গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। রুবেল খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে এবং খাজা হলের সামনে একটি জুস কর্নার পরিচালনা করতেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই দিন মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তিনি অভয়নগর উপজেলার ধূলগ্রাম-সিদ্দিপাশা এলাকার শিবপদ সরকারের ছেলে।

সবশেষে মামলার চতুর্থ আসামি হিসেবে শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ দল। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

শেখ আসিফ হোসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি এলাকায়।

এদিকে গ্রেপ্তার রিফাত মঙ্গলবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন এবং আরও ১২ থেকে ১৩ জনের নাম বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ ও এসআরবি জানিয়েছে, রিফাতের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি ভবনে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে মারধরের পর ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা কুতুবউদ্দিন হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চার শিক্ষার্থীর নামসহ ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় চারজন গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *