
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক খাদ্য-নির্ভর কোরাল বা ভেটকি মাছ চাষ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলার ‘দেশ বাংলা এসপিএফ চিংড়ি হ্যাচারি’তে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং বাংলাদেশ শ্রিম্প অ্যান্ড ফিশ ফাউন্ডেশন (বিএসএফএফ) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে মৎস্য অধিদপ্তর।
কর্মশালায় জানানো হয়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে বিএসএফএফ এবং বিপিসি যৌথভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী ও টেকনাফ এলাকায় বাণিজ্যিক খাবার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে কোরাল চাষের একটি পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। ওই প্রকল্পের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতেই এখন উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ চাষিদের মাঝে এই আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি খাবার ব্যবহারের ফলে কোরাল মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উপকূলীয় মৎস্য চাষিদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক এবং টেকসই একটি ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও মৎস্য চাষ বিশেষজ্ঞ ড. মো. জিল্লুর রহমান, বিএসএফএফ-এর বিশেষজ্ঞ মো. সেলিম সুলতান এবং বিপিসি-র সহকারী পরিচালক পলাশ কুমার ঘোষ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএসএফএফ-এর নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বটিয়াঘাটা এলাকার প্রান্তিক মৎস্য চাষি, হ্যাচারি মালিক, টেকনিশিয়ান এবং মৎস্য ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা উপকূলীয় অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চাষিরা এই আধুনিক পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে ভবিষ্যতে লাভজনকভাবে কোরাল চাষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ধরনের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা নীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
