
|| রোকনুজ্জামান রাজু | জামালপুর প্রতিনিধি ||
জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যায় দেবে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলিয়াদহ-আগারী আরসিসি গার্ডার সেতুটি আধুনিক হাইড্রোলিক পাম্প ও জ্যাক ব্যবহারের মাধ্যমে সফলতা ও দক্ষতার সঙ্গে উঁচু করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিন উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সেতুটির পুনর্বাসনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় ইসলামপুর উপজেলার ধর্মকুড়া জিসি-মাহমুদপুর জিসি সড়কের বলিয়াদহ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটির পুনর্বাসন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এই পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান, ২০০৭ সালে এডিবি (ADB)-র সহায়তায় প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ৪১১ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে কয়েক বছর আগে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটির একটি অংশ দেবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বিশেষ প্রকৌশল পদ্ধতিতে হাইড্রোলিক পাম্প ও জ্যাক ব্যবহার করে সেতুর দেবে যাওয়া অংশ প্রায় ১০ ইঞ্চি উঁচু করা হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজাদিদ আহম্মেদ জানান, ধর্মকুড়া জিসি-মাহমুদপুর বাজার সড়কের ৫ হাজার ৪০০ মিটার চেইনেজে ১১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির একটি অংশ নিচে দেবে গিয়েছিল। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেতুটিকে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। একই সাথে সেতুর দুই পাশে ১৫০ মিটার এপ্রোচ সড়ক সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত হলে এটি পুনরায় নিরাপদে যানবাহন চলাচলের উপযোগী হবে।
এদিকে স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, বলিয়াদহ-আগারী সেতুটি অঞ্চলের তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং সার্বিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ভরসা। দ্রুততম সময়ে সেতুটি পুনরায় পুরোপুরি চালুর দাবি জানিয়েছেন পথচারী ও স্থানীয়রা।
