
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হতে যাওয়া আসন্ন নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে নতুন ডিজেল চুক্তি এবং কথিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা নিয়ে নিজ দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে শত শত কোটি টন ডিজেল পাবে। এই চুক্তির পথ সুগম করতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে রুশ ডিজেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নতুন ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে এ বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এর মধ্যেই ইউক্রেনের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে হামলা শুরু করে রাশিয়া।
এই পরিস্থিতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিসহ পশ্চিমা মিত্ররা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, এটি ইউরোপে শান্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব রাজনৈতিক মহিলেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে; চারজন রিপাবলিকান সেনেটরসহ ডেমোক্র্যাটরা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে ডিজেলের দামে এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি এবং প্রতি গ্যালন ডিজেল ছয় ডলারের ওপরেই রয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও বেশি সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে জ্বালানি মূল্য নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভ এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
