
|| ডঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা | রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
এক সময় গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে জিগা গাছের দেখা মিললেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, গ্রামীণ ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব না থাকায় ঐতিহ্যবাহী ও দীর্ঘজীবী এ বৃক্ষটি আজ বিলুপ্তির পথে। রায়গঞ্জ উপজেলার কোথাও খোঁজ করেও গাছটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে অনেক ঘোরাঘুরির পর পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার খালখুলা থেকে নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার রাস্তায় মোটরসাইকেল মেকার রাশিদুলের বাড়ির পাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি জিগা গাছের সন্ধান মেলে।
আঞ্চলিকভেদে এটি জিগা, জিওল, ভাদি, কমিলা বা কাফিলা নামেও পরিচিত। ‘জিওল’ শব্দের অর্থ ‘যে সহজে মরে না’। বৈজ্ঞানিক কোনো নির্দিষ্ট আয়ুসীমা না থাকলেও অনুকূল পরিবেশে এ গাছ শত বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকে, যে কারণে একে জিওল গাছ নামেও ডাকা হয়। গাছটির ডালে প্রচুর শ্বেতসার থাকায় এর কাটা ডাল মাটিতে পুঁতলে সহজে গজিয়ে ওঠে। এ কারণে গ্রামগঞ্জ, বাড়ির সীমানা ও রাস্তার দুই ধারে ‘জীবন্ত বেড়া’ হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। রায়গঞ্জ পৌরসভার বেতুয়া মহল্লার কৃষক আব্দুল অহেদ জানান, জিগা গাছ না থাকায় এখন বেড়ার জন্য বাঁশের খুঁটির সাথে নেট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বেশ ব্যয়বহুল।
সিরাজগঞ্জ হটিকালচার সেন্টারের অতিরিক্ত উপপরিচালক ও উদ্ভিদবিদ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জিগার উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Lannea coromandelica, যা আম, আমড়া ও বৈলামের মতো একই পরিবারভুক্ত। পাতাহীন ডালের শীর্ষে মিষ্টি গন্ধযুক্ত হলদে-সবুজ ফুল ফোটে। জিগা গাছের কাণ্ড থেকে নিঃসৃত আঠা দিয়ে এক সময় গ্রামের শিশুরা ঘুড়ি বানাত। এছাড়া লোকজ চিকিৎসায় এর পাতা ও ছালের রস আলসার, মুখের ঘা ও বাতের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। বহুমুখী ব্যবহার ও প্রাচীন ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের দীর্ঘজীবী এ বন্ধু।
