
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা ও দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের মহাকাশ বাহিনী বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন বহর সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এছাড়া মার্কিন বাহিনীর হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা, পি-৮ আকাশযান রাখার হ্যাঙ্গার এবং একটি ড্রোন কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে সফল আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের আলি সালেম ও আহমদ আল-জাবের ঘাঁটিতে চালানো চতুর্থ পর্যায়ের হামলায় মার্কিন সার্ফেস-টু-সার্ফেস ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং দুটি ‘হিমার্স’ (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও গোলাবারুদের গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংঘাতের জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করে বলেছে, মার্কিন আগ্রাসন পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করে। এদিকে বন্দর আব্বাসে মার্কিন বাহিনীর একটি ‘লুকাস’ আত্মঘাতী ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবিও করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম।
এর আগে ইরানের খুজেস্তান, হরমোজগান, সিস্তান-বেলুচিস্তান ও মারকাজি প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে মারকাজি প্রদেশের খন্দাব শহরের ভারী পানির স্থাপনা এবং হরমোজগানের রেডার কেন্দ্রগুলোও ছিল। আল জাজিরার তথ্যমতে, মার্কিন হামলার জবাবে খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকার একটি কৃষি সেচ প্রকল্পে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে একের পর এক পাল্টা ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
