রবিবার, জুলাই ১২

গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের যৌথ উদ্যোগেই বদলাবে গ্রামীণ বাস্তবতা

|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||

গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সুশীল সমাজের সক্রিয় সম্পৃক্ততা সময়ের দাবি। সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনমত সৃষ্টি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়গুলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব অভিমত উঠে আসে।

সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায়, ‘নাগরিকত্ব জিপিএ’-এর কারিগরি সহযোগিতায় সভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল খান ফাউন্ডেশন। স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা এবং লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (লফস)।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং প্রিন্ট, টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। সভায় উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

আলোচনায় চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেগুলোর সমাধানে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগ সীমিত হচ্ছে এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে একযোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের পাশের জীবন্ত গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগানোর প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের কাজ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সড়কের পাশে স্থাপিত বড় সাইনবোর্ড অনেক সময় যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা আড়াল করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এসব অবৈধ সাইনবোর্ড অপসারণ এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম বন্ধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।

সভায় গ্রামীণ এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, অনেক ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় সেবা নিতে আসা নারীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা তাদের জন্য কষ্টকর এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তাদের মতে, আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার রক্ষায় আরও সক্ষম হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরও বলেন, সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা নীতিনির্ধারণী মহলের নজরে আসবে এবং সমাধানের পথ সুগম হবে। অন্যদিকে সুশীল সমাজ মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সামাজিক পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ জনগণের কল্যাণে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

‘লফস’-এর নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক মহিলা কমিশনার মোসাঃ শাহানাজ পারভীন লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন খান ফাউন্ডেশনের রাজশাহী জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৪০ জন সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমস্যা চিহ্নিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাধানমুখী উদ্যোগ জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *