
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
ইসলামের ইতিহাসে হযরত ইমাম হোসাইন রা. ও তার পরিবার পরিজন ও সংগী সাথিদের নির্মম শাহাদতের ঘটনা প্রতিটা মুমিনের হৃদয়ে নাড়া দেয়, দুঃখে ভরাক্রান্ত করে। আর একটি নির্মম ও বিয়োগান্ত ঘটনার নাম কারবালা। কারবালা মানে ত্যাগ, কুরবানি আর শাহাদাতের অমীয় সুধার ভাস্কর।
কারবালা মানে অন্যায় ও অসত্যের সামনে মাথা নত না করার এক জলন্ত ইতিহাস।
কারবালা মানে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও ইসলামকে রক্ষা করতে পিছপা হওয়া যাবে না। খেলাফতের ধারাবাহিকতা রক্ষা, অন্যায় অবিচার রুখে দেয়ার প্রেরণা।
কারবালা’ ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রান্তর। একষট্টি হিজরি সনের মহরম মাসের ১০ তারিখ ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার পরিজন অত্যন্ত করুণভাবে শাহাদাতবরণ করেন। রাসূল (সা.)-এর ওফাতের প্রায় ৫০ বছর পর ৬১ হিজরির মহররম মাসের ঘটনা। সে সময় কুফা ছিল একটি প্রদেশ এবং কুফার গভর্নর ছিলেন উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ। তাঁরই নেতৃত্বে কারবালার নির্মম ঘটনা সংঘটিত হয়।
কুফাবাসী তৎকালীন শাসক ইয়াজিদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য হোসাইন ইবনে আলী (রা.)-কে শত শত পত্রের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানায়। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে আগমন করলে তারা তাঁকে একাকী বিপদের মুখে ফেলে রেখে নিজেরা নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকে।
অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.) ন্যায় ও সত্যকে সমুন্নত রাখার জন্য অকুতোভয় হয়ে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেছিলেন কারবালায়; কিন্তু তিনি অসত্য, ও অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য, অবিচারের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য জীবন বাজি রেখে পরিবার পরিজন ও সংগী সাথি নিয়ে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই বিশাল আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছ। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের যে উদাহরণ কারবালার ময়দানে সেদিন ঘটেছিলো, তা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
কারবালা আমাদের শিক্ষা দেয় সংখা ও সামর্থ্য যাই থাকুক অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে এবং ইসলামকে সমুন্নত রাখতে বা প্রতিষ্ঠিত করতে অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ করা যাবে না।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
