
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধ পিতামাতা প্রতি ছেলে-মেয়েদের নিষ্ঠুর আচরণ বেড়েই চলছে। বার্ধক্যে এসে তারা পরিবারের কাছে হয়ে পড়ছেন মূল্যহীন। বাবা-মার সাথে নিষ্ঠুর আচরণের এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত নিষ্ঠুর ঘটনাটি অনেকেরই বিবেক নাড়া দিয়েছে। চরম ত্যাগ স্বীকারকারী বাবা-মায়ের প্রতি দিনদিন উদাসীন হয়ে পড়ছে অনেক সন্তান। অবহেলার শিকার হচ্ছেন বাবা-মা। ভোগবাদী জীবন তাদের প্রতি উদাসীন করে তুলছে আমাদের, এ কথা এখন পরীক্ষিত সত্য।
পশ্চিমা দুনিয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে সন্তানরা কাছে রাখতে চায় না। আমাদের দেশেও এ সংস্কৃৃতি ব্যাপকভাবে এক শ্রেণির মানুষ অনুসরণ শুরু করেছে।
মা-বাবার প্রতি অবহেলার মূল কারণ হলো নৈতিক অবক্ষয়, ধর্মবিমুখ, ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং দুনিয়াবী শিক্ষিত হলেও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এ ক্ষেত্রে অন্যতম বড় কারণ এবং যান্ত্রিক জীবনযাপন। ভোগবাদী মানসিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের অভাবে অনেক সময় সন্তানরা বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিজেদের জন্য বোঝা মনে করে। অথচ আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা তাঁকে (আল্লাহ) ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না এবং বাবা-মার প্রতি উত্তম আচরণ করো। তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ্ বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না; বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক নম্র ভাষায় কথা বলো। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থাকো। আর বলো- ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন।’ (সূরা বনী ঈসরাইল ২৩-২৪)
হাদিস শরিফে এসেছে, আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) একদা তিনবার বললেন, আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবহিত করব না? সবাই বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং মা-বাবার অবাধ্য হওয়া।
(বুখারি, হাদিস : ২৬৫৪)
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
