বুধবার, মে ১৩

চিলমারী রানীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন: অভিযানে মজুদকৃত বালু জব্দ

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন কবলিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১২ মে) দিনব্যাপী এই অভিযানে ১১টি পয়েন্টে মজুদকৃত প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের বালু জব্দ করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন চিলমারী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টি-বাঁধ সংলগ্ন কালিরকুড়া থেকে জকুরীটারী পর্যন্ত ৯টি এবং ফকিরের হাট এলাকার ২টি পয়েন্টসহ মোট ১১টি স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় উত্তোলিত বালু জব্দ করে সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয় এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম ও মো. মুকুল মন্ডলের জিম্মায় রাখা হয়।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বালু খেকো চক্রটি প্রতিদিন ডাম্পার ও ছয় চাকার বেপরোয়া গাড়ির মাধ্যমে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার বালু পাচার করে আসছিল। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে। বাল্কহেড ও ডাম্পারের বিকট শব্দে স্থানীয়দের জনজীবন অতিষ্ঠ এবং স্কুলগামী শিশুরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কালিরকুড়া টি-বাঁধ ও জকুরীটারী এলাকা সরাসরি ভাঙনের মুখে পড়ায় কয়েক শ পরিবার গৃহহীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এমনকি ভাঙন রোধে বসানো আরসিসি ব্লক তুলে নিয়ে বালু পরিবহনের রাস্তা তৈরির মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা একে সাময়িক পদক্ষেপ উল্লেখ করে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধের দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে সরকারের ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ড্রেজার দিয়ে নদের তলদেশ থেকে বালু তুলে ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

অভিযান প্রসঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত বালু উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে অথবা কোনো সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্রহ্মপুত্রের বালু অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। এটি অপরিকল্পিতভাবে পাচার না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনলে সরকারের যেমন রাজস্ব বাড়বে, তেমনি নদের গতিপথ ঠিক রেখে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। নদের ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও বালু উত্তোলনে সঠিক নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *