
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বুধবার (৬ মে) লেনদেন শুরু হতেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬.২ শতাংশ কমে ১০৩.০৪ ডলারে নেমে আসে। একই সাথে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫.৫৫ ডলারে থিতু হয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খবরের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করা বিপুল পরিমাণ তহবিল ছেড়ে দেবে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। এই সমঝোতার খবরে সেই অস্থিরতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারা দেওয়ার বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ৬৬ দিন পর সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, চুক্তি কার্যকর হলেও তেলের সরবরাহ রাতারাতি স্বাভাবিক হবে না। আটকা পড়া শত শত জাহাজ চলাচল এবং বীমা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।
