
|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ এবং তাদের মধ্য থেকেই দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হতে হবে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং দেশের দায়িত্ব তোমাদেরকেই নিতে হবে।
আজ শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে আমার বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছে তোমাদের সাথে কথা বলি। এখন মন দিয়ে পড়তে হবে আর খেলতে হবে। নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। তোমাদের মধ্যে যে খেলোয়াড় হতে চায়, সে খেলোয়াড় হবে; যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে এবং যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে। আমরা ইনশাল্লাহ সেই ব্যবস্থা করব।”
প্রধানমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, কিন্তু বাংলাদেশকে তোমাদেরই সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?”
এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী উচ্চকণ্ঠে ‘হ্যাঁ পারব’ বলে সাড়া দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যত সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, আগামীর বাংলাদেশ তত সুন্দর ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যাবে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ভাবনা কীভাবে এসেছিল, সেই গল্প শুনিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে বসে ক্রীড়াবিদ আমিনুলের সঙ্গে আলাপচারিতা ও আড্ডার একপর্যায়ে খাবার টেবিলে তারা বাংলাদেশে এই ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে ক্ষুদে প্রতিভা খুঁজে বের করতে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্টেডিয়ামের মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ ৮টি ইভেন্টের চমৎকার অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন উপভোগ করেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন। বক্তব্য শেষে তিনি সিলেটসহ দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং টুর্নামেন্টের ট্রফি ও লোগো উন্মোচন করেন। পরে তিনি মাঠে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা ও এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
