শনিবার, মে ২

চিলমারীতে ২ বছরের শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য উন্মোচন: ঘাতক দম্পতি গ্রেপ্তার

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানাধীন মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার মাত্র ০২ বছরের শিশু কন্যা আয়শা আক্তার আশুরা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চিলমারী থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলায় (মামলা নং-০৪, তারিখ: ১৮/০৪/২০২৬) তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এই নৃশংস শিশু হত্যাকাণ্ডটি পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিকতা, এলাকাবাসীর সহযোগিতা এবং চিলমারীর সাংবাদিক মহলের বলিষ্ঠ ভূমিকায় শেষ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ইং তারিখ সকালে শিশু আয়েশা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে নিহত আয়েশার পিতা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার ফজলে রাব্বি এবং উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আশরাফুল আলম, পিপিএম-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নয়ন কুমার-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এবং কুড়িগ্রাম ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ইং তারিখে বিশেষ অভিযানে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি কহিনুর বেগম ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল শিশু আয়েশা পাশের বাসায় আসামি কহিনুর বেগমের একই বয়সী ছেলের সাথে খেলার সময় অসাবধানতাবশত একটি কলম দিয়ে চোখে আঘাত পায় এবং তার চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় শিশু আয়েশা ব্যথায় চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আসামি কহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আয়েশা নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। এরপর কহিনুর আয়েশার মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে রাতে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মরদেহটি পাশের একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে দিয়ে আসেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি কহিনুর বেগম ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে গতকাল ১ মে, ২০২৬ ইং তারিখে কুড়িগ্রাম জেলার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেখানে আসামি কহিনুর বেগম নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে যেন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যাতে নিহত শিশুটির আত্মা শান্তি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *