
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান। তিনি বর্তমান ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সকল সেক্টরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের জন্য সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে মোস্তফা তারেকুল হাসান বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো মেহনতি শ্রমিক শ্রেণি। বিশেষ করে আমাদের পোশাক শিল্প আজ বিশ্ব দরবারে যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার পেছনে রয়েছে লাখ লাখ শ্রমিকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রম। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ও রপ্তানি আয় বাড়লেও দেশের শ্রমিকরা আজও চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার এই চিরন্তন দ্বন্দ্ব দেশের শিল্প ও অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী শ্রমিকের মজুরি কেবল তার বেঁচে থাকার জন্য নয়, বরং তার মৌলিক চাহিদা পূরণের উপযোগী হতে হবে। বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা যা খাবে ও পরবে, তোমাদের অধীনস্থদেরও তা-ই খাওয়াবে ও পরাবে। এ ছাড়া হাদিস শরীফে শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পাওনা পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আজ আমাদের দেশে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা চাইতে গিয়ে রাজপথে জীবন দিতে হয়, যা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং ইসলামী ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল উল্লেখ করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একজন শ্রমিকের পক্ষে বিদ্যমান সামান্য মজুরি দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর মানদণ্ড অনুযায়ীও শ্রমিকের মজুরি হতে হবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাই মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসন, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবিলম্বে গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি মালিকদের উদ্দেশে বলেন, শ্রমিকদের ঠকিয়ে বা তাদের বঞ্চিত করে কোনো শিল্পে স্থায়ী কল্যাণ ও সমৃদ্ধি আসতে পারে না। মালিক ও শ্রমিকের সুসম্পর্কই শিল্পের মূল ভিত্তি। একই সাথে তিনি সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক শ্রমনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।
