
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের ‘চূড়ান্ত কৌশল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই কৌশলগত নৌপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরোধমূলক প্রভাব বিস্তার করাই তেহরানের বর্তমান নির্ধারক কৌশল।
আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালি কেবল একটি সাধারণ নৌপথ নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের ওপর কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর হাতিয়ার। যেহেতু বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন বিশেষ দূতদের পূর্বনির্ধারিত পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে হোয়াইট হাউস।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে এই সফরে কাঙ্ক্ষিত কোনো ফলাফল আসার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরে আসুক এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান ও কর্মকাণ্ড বন্ধ করুক।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ কঠোরভাবে বলবৎ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের বিশ্বাস, এই অবরোধ কার্যকর থাকায় ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ইরান যদি সত্যিই আলোচনায় বসতে আগ্রহী হয়, তবে তাদেরই নিজ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আলোচনার সব দায়ভার তেহরানের ওপর চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেবল তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে রাখল।
