
|| আসাদুল ইসলাম | নিজস্ব প্রতিনিধি (বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ) ||
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত কুঞ্জ এখন গভীর সংকটে। অব্যাহত লোডশেডিং এবং জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ জেলার ৯টি উপজেলার তাঁত শিল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। একসময়ের কর্মচঞ্চল তাঁত পল্লীগুলোতে এখন কেবলই হাহাকার। বিদ্যুতের অভাবে অধিকাংশ পাওয়ারলুম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। স্থানীয় তাঁতিরা জানিয়েছেন, আগে একটি জামদানি শাড়ি বিদ্যুৎচালিত তাঁতে তৈরিতে খরচ হতো মাত্র ৪০ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয় এক লাফে চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে বেলকুচির, মুকুন্দগাঁতী, শেরনগর, তামাই ও এনায়েতপুরের খামার গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত কারখানাগুলো নীরব হয়ে আছে। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা কারখানার বাইরে অলস সময় কাটাচ্ছেন, কেউবা লুডু খেলে বা মোবাইল ফোনে গান শুনে সময় পার করছেন।
তাঁত শ্রমিক রহমত আলী জানান, অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, আবার বাজারে ডিজেল পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আয় কমে যাওয়ায় তারা এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং দেনার দায়ে জর্জরিত হচ্ছেন। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা বদল করছেন, কেউবা কাজের উদ্দেশ্যে এলাকা ছাড়ছেন।
জাতীয় তাঁতি সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত ছিল, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নির্ভরশীল। তবে বর্তমান সংকটে জেলার প্রায় পাঁচ লাখ তাঁতের মধ্যে মাত্র দুই লাখ (জেনারেটর ও হস্তচালিত) কোনোমতে চালু আছে, বাকিগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। বিশেষ করে প্রান্তিক তাঁতিরা, যাদের ৫-১০টি তাঁত রয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সুতা ও রঙের চড়া মূল্য এবং নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে তারা বাজারে টিকে থাকতে পারছেন না। শিল্প সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং জ্বালানি সংকট সমাধান না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে দেশের অন্যতম প্রধান এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
