
|| রাসেল মিয়া | তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নস্থ বেলংকা গ্রামের আট বছর বয়সী শিশু মোঃ রাহুল হকের ফুটবল নৈপুণ্যে রীতিমতো বিস্মিত ওই অঞ্চলের ফুটবলপ্রেমীরা। তার এই অবিশ্বাস্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ এখন তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। রাহুল ওই গ্রামের চারা গাছ বিক্রেতা মোঃ আইনুল মিয়ার একমাত্র ছেলে। পাঁচ মেয়ের পর জন্ম নেওয়া এই ছেলের ফুটবল প্রতিভা নিয়ে এখন গর্বিত তার পরিবার।
রাহুলের বাবা আইনুল মিয়া তাড়াইল উপজেলার সামনে চারা গাছ বিক্রি করে অতি কষ্টে সংসার চালান। আর্থিক অনটন থাকলেও ছেলের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে কোনো কমতি নেই তার। তিনি জানান, ছেলের প্রতিভা বিকাশে প্রায় প্রতিদিন বিকালেই তাকে নিয়ে মাঠে প্র্যাকটিস করতে যান তিনি।
ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে আইনুল মিয়া বলেন, “আমি গরিব মানুষ, গাছ বিক্রি করে কোনোমতে খাই। ইচ্ছা থাকলেও সাধ্য নেই ছেলেকে ভালো কোনো শহরের স্কুলে বা উন্নত পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার। এমনকি ভালো স্কুলে পড়াতে গিয়েও আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে সরকারের নিকট আবেদন জানান, যদি তার ছেলেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা দেওয়া হয়, তবে সে একদিন জাতীয় পর্যায়ে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
রাহুলের খেলা দেখে মুগ্ধ স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নেসার উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবল খেলা দেখে আসছেন, কিন্তু এত ছোট বাচ্চার পায়ে এমন সুন্দর খেলা তিনি জীবনে প্রথম দেখলেন। একই গ্রামের মোঃ জামিনুর রহমানও অবাক হয়ে জানান, এই বয়সে এমন ফুটবল শৈলী তার কাছে অকল্পনীয়।
দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট হওয়া এই ক্ষুদে প্রতিভার বিকাশে এখন সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তার আশায় দিন গুনছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
