
|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর আয়শা সিদ্দিকা (২) নামে এক শিশুর চোখ উপড়ানো ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা জায়গা থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নিহত আয়শা ওই এলাকার রাজমিস্ত্রি আলমগীর হোসেনের একমাত্র কন্যা সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আয়শা। এরপর পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয়রা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। এমনকি এলাকায় মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়।
দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকার সুযোগে কে বা কাহারা বাড়ির পাশের ঝোপে বাঁশের কঞ্চির ওপর শিশুটির মরদেহ ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। উদ্ধারকৃত মরদেহের একটি চোখ উপড়ানো এবং শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে।
নিহত শিশুর দাদা ফজল জানান, প্রতিবেশীর সাথে বাড়ির রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। কিছুদিন আগে আয়শার মাকেও মারধর করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে আয়শা প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে যাওয়ার পর থেকেই ওই বাড়ির গেট বন্ধ ছিল।
পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজের পর রাতে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের একটি চোখসহ শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
