
|| আলোকিত দৈনিক ডেস্ক ||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পদ নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র চূড়ান্ত দায়িত্ব। আমরা এমন এক সশস্ত্র বাহিনী চাই যাদের বহিঃশক্তি সমীহ করবে এবং দেশের জনগণ পরম আস্থায় রাখবে। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সবসময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।
এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, ২১শে নভেম্বর যৌথ সামরিক পূর্ণতা এবং ৭ই নভেম্বর দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পুনর্জাগরণ—এই তিন অবিভাজ্য ধারা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের মেরুদণ্ড। গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধ এবং সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রেখে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অস্থির সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রশাসনিক অচল অবস্থাতেও সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ অবদান রেখেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল ও স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা ছিল গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী দেড় দশক এই বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বজায় রাখাকে সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের যে সাফল্য রয়েছে, আগামী দিনেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করতে সশস্ত্র বাহিনীর সততা ও শৃঙ্খলা একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। বর্তমান সরকার মিলিটারি টু মিলিটারি পার্টনারশিপ উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে চায়। নতুন প্রজন্মের সেনা সদস্যদের দেশপ্রেম ও সাহসকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করে একটি বিশ্বমানের স্মার্ট ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
