
|| রাজিবুল হাসান | নিজস্ব প্রতিবেদক ||
এবার চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস এ নজরুল সংগীতে বিজয়ী হয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় নজরুল সংগীতশিল্পী শহীদ কবির পলাশ।
নজরুল সংগীতে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী এই শিল্পী জানিয়েছেন, তিনি একই সঙ্গে নিজে গান করেন এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এই দুটি কাজই তিনি সমান উপভোগ করেন। তিনি আরও বললেন, ‘আমি সরাসরি গান শিখেছি বরেণ্য সংগীতগুরু সোহরাব হোসেন আর সুধীন দাশের কাছে। দীর্ঘ সময়ে তাঁদের কাছ থেকে যা শিখেছি, তা-ই এখন চর্চা করছি, অন্যদের শেখাচ্ছি। এই কাজে যে আনন্দ, তা বলে বোঝানো যাবে না।’
২০০৫ সালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতা’য় আধুনিক গান ও নজরুলসংগীত বিভাগে প্রথম হয়েছেন পলাশ।
২০০৯ সালে বের হয় তাঁর গাওয়া নজরুলসংগীতের প্রথম অ্যালবাম পরদেশি বঁধুয়া। ওই বছর অ্যালবামটির জন্য তিনি ‘সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ পান। এরপর তাঁর আরও দুটি অ্যালবাম বেরিয়েছে। নানা ধরনের গান নিয়ে নব নব রূপে (২০১৩) ও নজরুলসংগীত নিয়ে বসিয়া নদীকূলে (২০১৪)। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন প্রকাশ করেছে বাজুক প্রাণে বাংলা গান শিরোনামে আধুনিক গান ও নজরুলসংগীতের দুটি অ্যালবাম। এই দুটিতেই গান করেছেন পলাশ।
তিনি জানান, তখনো পড়াশোনায় তাঁর হাতেখড়ি হয়নি। সেই বয়সে তিনি যে গান শুনতেন, তা-ই গাইতে পারতেন। ছেলের প্রতিভা দেখে মুগ্ধ বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন জামালপুর মাদারগঞ্জের স্কুলশিক্ষক। ছেলেকে নিয়ে যান বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিযোগিতায়। ওই বয়সেই পলাশের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। এরপর একই সঙ্গে শুরু হয় পলাশের পড়াশোনা আর গান শেখা। শুরুতে মাদারগঞ্জে রাশেদুল ইসলাম (খোকন) ও অশ্বিনী কুমার, পরে ঢাকায় এসে নজরুলসংগীতের ওপর সার্টিফিকেট কোর্স করেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে। পলাশ বললেন, ‘নজরুল ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর নজরুলসংগীতের নতুন ভুবনের সন্ধান পেয়ে যাই। আমি এখনো এই ভুবনের সঙ্গেই আছি।’
নজরুলসংগীতের শুদ্ধ বাণী ও সুর নিয়ে বিতর্কের ব্যাপারে পলাশ বলেন, ‘এগুলো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। নজরুল ইনস্টিটিউট যখন বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া নজরুলসংগীত আদি রেকর্ড থেকে শুনে শুনে স্বরলিপি তৈরি শুরু করে, আর এই স্বরলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে; তখন থেকেই সচেতনতা বাড়তে থাকে। এখন ঢাকায় এই সমস্যা নেই। বিভিন্ন জেলা শহরে যাঁরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তাঁদেরও আমরা ঢাকায় এনে কিংবা সেখানে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাঁরাও নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত স্বরলিপিগুলো সংগ্রহ করছেন, আদি গান নিয়ে তৈরি অ্যালবামগুলো শুনছেন, স্বরলিপি দেখছেন, নিজের ভুলগুলো শুধরে নিচ্ছেন। এখন কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও শুদ্ধ বাণী ও সুরে নজরুলসংগীত গাওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ছে।’
শহীদ কবির পলাশ বর্তমানে জাতীয় কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন আছেন ২০০৭ সাল থেকে। পাশাপাশি তিনি নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে নজরুল ইনস্টিটিউটে ২০ বছর বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শহীদ কবির পলাশ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগদান করেন। এখন তিনি পদার্থবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। স্ত্রী নাসরিন জাহান একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।
