Thursday, October 15

রজব মাসের গুরুত্ব ও করণীয়

|| ধর্ম ডেস্ক ||

ইসলামি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস হলো পবিত্র রজব মাস। এটি অত্যন্ত বরকতময় এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে ‘আশহুরুল হুরুম’ বা ‘নিষিদ্ধ ও সম্মানিত মাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, রজব তার মধ্যে অন্যতম।

​রজব মাসের গুরুত্ব ও করণীয় সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ নিচে দেওয়া হলো:

​রজব মাসের গুরুত্ব

​রজব মাস মূলত ইবাদতের বসন্তকাল এবং রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। এই মাসের গুরুত্বের প্রধান কয়েকটি দিক হলো:

  • ​সম্মানিত মাস: সূরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে যে চারটি সম্মানিত মাসের কথা বলা হয়েছে, রজব তার একটি। এ মাসে ঝগড়া-বিবাদ বা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
  • ​রমজানের প্রস্তুতি: প্রখ্যাত আলেমরা বলেন— রজব মাস হলো বীজ বপনের মাস, শাবান মাস হলো গাছে পানি দিয়ে পরিচর্যার মাস, আর রমজান মাস হলো ফসল কাটার মাস।
  • ​মে’রাজের মাস: অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, এই মাসেই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে ‘মে’রাজ’ গমন করেছিলেন, যেখানে উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত সালাত উপহার দেওয়া হয়।

​রজব মাসের করণীয়

​রজব মাসকে রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এই মাসে বিশেষ কিছু আমল আমাদের আত্মিক উন্নতিতে সাহায্য করে:

​১. বিশেষ দোয়া পাঠ করা

চাঁদ দেখার পর থেকে নবীজি (সা.) একটি বিশেষ দোয়া বেশি পড়তেন:

​“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।”

(অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।)

​২. তাওবা ও ইস্তিগফার

এটি পাপ মোচনের মাস। বিগত দিনের ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা (আস্তাগফিরুল্লাহ) করা উচিত।

​৩. নফল রোজা পালন

রজব মাসে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। বিশেষ করে সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে (আইয়ামে বিয) রোজা রাখা সুন্নাত।

​৪. ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা

রমজানের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তি দূর করতে এখন থেকেই তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত এবং জিকিরের অভ্যাস শুরু করা প্রয়োজন।

​৫. ঝগড়া ও পাপাচার ত্যাগ করা

যেহেতু এটি নিষিদ্ধ মাস, তাই কোনো প্রকার অন্যায়, গিবত বা বিবাদে জড়ানো থেকে নিজেকে পবিত্র রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

​রজব মাস আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধির এক সুবর্ণ সুযোগ। রমজানের পূর্ণ বরকত পেতে হলে এই মাস থেকেই আমাদের নিয়ত ও আমল সংশোধন করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *