মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১

৪ আসনে জয়ের পরও খুলনায় সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে হতাশা

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে মাত্র ১১টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে খুলনা জেলার ৬টি আসনের ৪টিতেই জয় আসে দলটির প্রার্থীদের ঝুলিতে। তবুও সংরক্ষিত নারী আসনে খুলনা থেকে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পাওয়ার প্রত্যাশা থেকেই খুলনা অঞ্চলের অন্তত ১২ জন নারী নেতা সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, পাশের যশোর জেলার ৬টি আসনের ৫টিতেই বিএনপি পরাজিত হলেও যশোর-২ আসনের পরাজিত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সবগুলো আসনেই জয় পায় জামায়াতে ইসলামী। বাগেরহাটের ৪টির মধ্যে ৩টিতেও জয় পায় দলটি। তবে খুলনায় বিএনপির তুলনামূলক ভালো ফলাফল সত্ত্বেও সরকার গঠনের সময় এখান থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে সংরক্ষিত নারী আসনেও প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা।

খুলনার দৌলতপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে খুলনা ছিল অগ্রগামী। ৬টির মধ্যে ৪টি আসনে জয়ী হয়েও সরকারে অংশীদারিত্বে অবহেলিত।”

মনোনয়নপ্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দা রেহেনা ঈসা বলেন, “খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চল থেকে একজনকে সংরক্ষিত আসনে নেওয়া হলে ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখানো হতো। সেই প্রত্যাশা থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। তবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।”

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, “সংসদে সংরক্ষিত আসন বণ্টন হয় নির্বাচিত আসনের ভিত্তিতে। খুলনা থেকে ৪ জন নির্বাচিত হওয়ায় প্রত্যাশা কিছুটা বেশি ছিল। নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে, তবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *