Tuesday, July 28

স্মৃতির পাতায় তালাবা: পর্ব-৮

১৯৮১ সালে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে দুই দিনব্যাপী একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। সারাদেশ থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে সম্মেলনে যোগদানের জন্য জমিয়াতে তালাবায়ে আরাবিয়ার পক্ষ থেকে আহবান করা হয়।

ফেনী থেকে সম্মেলনে যোগদান করা ও সফলতার জন্য ফেনী জেলা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার পক্ষ থেকে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। যথা নিয়মে বিভিন্ন মাদ্রাসার সাথে যোগাযোগ করা হয়। সম্মেলনে যোগদানে ছাত্রদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে তালাবায়ে আরাবিয়ার বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা ছাত্রদের নিকট উল্লেখ করা হয়। এ সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে সরকারের নিকট আমাদের দাবি জানানো হবে। সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমরা ছাত্রদের ব্যাপক উৎসাহ ও সাঁড়া পেলাম।

এখন আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঢাকায় যাওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা। আমাদের চিন্তা অনেক জন ছাত্র কিভাবে কম খরচে ঢাকার সম্মেলনে যোগদান করা যায়। প্রস্তাব আসলো যদি রেলওয়েতে যাওয়া যায় তাহলে খরচ কম হবে। আমাদের এত ছাত্রের জন্য এত টিকেট কিভাবে সংগ্রহ করা যাবে। তখনই আমাদের এক দায়িত্বশীল আব্দুল হান্নান সে বলল আমার এক আত্মীয় আছেন রেলওয়ে চাকরি করেন তার সাথে কথা বলে দেখতে পারি। সিদ্ধান্ত হলো আগে রেলওয়েতে যাওয়ার কোনো সুযোগ বের করা যায় কিনা সেটা দেখা হোক। যথারীতি সেই দায়িত্ব নিয়ে যোগাযোগ করলেন এবং আমাদেরকে জানাল চট্টগ্রাম থেকে রেল বুকিং করে দিতে পারবেন। আমাদের সবাই এ খবরে খুব সন্তুষ্ট হলেন এবং বুকিং করার জন্য তাকে পরামর্শ দেয়া হলো। আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি কি দুইটি বগি রিজার্ভ করা হলো চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা।

চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত বগি গুলো খালি এসেছে সাথে আমাদের সেই ভাই আব্দুল হান্নান ছিলেন। সবার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমাদের সেই দায়িত্বশীল ভাই, এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন, কিছুদিন আগে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন।

আমরা যথাসময়ে ঢাকা গমনের উদ্দেশ্যে ফেনী থেকে রেলওয়ের নির্দিষ্ট বগিতে যার যার আসন গ্রহণ করি অনেক জন দাঁড়িয়েও ছিলেন। কয়েক ঘন্টা পরে আমরা কমলাপুর রেল স্টেশনে এসে পৌঁছি। সেখানে আমাদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য তখনকার সময় আইডিএল অফিস থেকে কাজী আবু হুরায়রা ভাই যিনি পরবর্তী সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত এবং ইমাম সমিতির সভাপতি। তিনি এবং তার সাথে আরো কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে উপস্থিত হলেন এবং ইসলামী ছাত্র-শক্তির সভাপতি শাহিন ভাইও উপস্থিত ছিলেন।

আমরা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে
বিভিন্ন স্লোগানে মিছিল সহকারে মাদ্রাসা আলিয়ার মাঠে আগমন করি। সেখানে আসার পরে আমাদেরকে মুহুর্মুহু স্লোগানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। আমাদের সাথে মমতাজ নামে একজন দায়িত্বশীল ছিল, সে আবেগে আপ্লুত হয়ে মাঠের মধ্যে আমাকে সম্বোধন করে স্লোগান দিতে শুরু করে। আমরা যথাসময়ে ফেনী থেকে এসে সম্মেলনে যোগদান করি। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি।

এটি মূলত মাদ্রাসা আলিয়ার ঢাকার ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২ দিনের সম্মেলন ছিল। সম্মেলন উদ্বোধন করেছিলেন ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দিন। সে সম্মেলনে দেশি বিদেশি অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপস্থিত হয়েছিলেন।

আমার যতদূর মনে পড়ে আমরা মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে বিপুল ছাত্রের মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা শুরু করি আমাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে। মিছিল বাংলা মোটর পর্যন্ত গেলে সেখানে পুলিশ বাধা সৃষ্টি করে। পুলিশ থেকে বলা হলো আপনারা সেদিকে যেতে পারবেন না। আপনাদের কোনো দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি থাকলে আপনাদের প্রতিনিধি সংসদে গিয়ে দিয়ে আসতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের বিপ্লবী সভাপতি হাফেজ এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ভাই এবং আরো কয়েকজন দায়িত্বশীল পুলিশের তত্ত্বাবধায়নে সংসদ ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে আসেন। আমাদের মিছিল ও প্রতিবাদ সভা সেখানে শেষ করা হয় সেদিনের মতো। (চলবে ইনশাল্লাহ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *