বুধবার, এপ্রিল ২২

সিয়াম মানুষকে পরিশুদ্ধ করে খাঁটি মুমিনে পরিণত করে

|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||

সিয়াম অর্থ বিরত থাকা আর রোজা অর্থ পোড়ানো, মূলত দুটি অর্থ একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকার সাথে সাথে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ কর্ম, গালি গালাজ ইত্যাদি পরিহারের মাধ্যমে আগুন যেমন খাদ যুক্ত সোনাকে পুড়িয়ে খাঁটি সোনায় পরিণত করে, ঠিক তেমনিভাবে রোজাও মানুষকে একজন খাঁটি মুমিনে পরিণত করে। এজন্য হাদিসে রোজাকে ঢাল স্বরুপ বলা হয়েছে। ঢাল যেমন মানুষকে আত্মরক্ষা করতে সাহায্য করে তেমনি রোজাও মানুষকে আত্মরক্ষা করে সকল অন্যায় থেকে।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “রোজা ঢাল স্বরুপ। তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে বা হৈচৈ না করে। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে বা বিবাদে প্ররোচিত করতে চায়, তবে সে যেন বলে আমি রোজাদার। “- বুখারী।

রোজার মাধ্যমে মানুষ আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধন করতে পারে। মানুষ সংযমী হতে শেখে। তাই বাস্তবে আমরা দেখতে পাই, রমজান মাস আগমনের সাথে সাথে চারিদিকে এক স্নিগ্ধ প্রশান্ত বেহেশতি হাওয়া বইতে থাকে। সমাজে এক প্রশান্ত অবস্থা বিরাজ করে।

রমজানের রোজার মধ্যে রয়েছে মানুষের শারিরিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক এক মহান গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য।

ইসলামের মূল লক্ষই হচ্ছে মানবজাতির কল্যাণ ও সুখ শান্তি। এবং একটি সুখি ও শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণ। কিন্তু এটা সম্ভব তখনই যখন মানুষ আত্মশুদ্ধি ও আত্ম সংযমের মাধ্যমে দূর করতে পারবে লোভ, লালসা, কুচরিত্র, হিংসা বিদ্বেষ, অবিচার, অনাচার এবং সকল প্রকার অনৈতিক স্বভাব-চরিত্র।

আর নিজেকে গড়ে তুলবে একজন খাঁটি, পরিশুদ্ধ মানুষ ও সত্যিকার মুমিন হিসেবে।
আর সওম বা রোজা আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।

লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *